মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০১:১৯ অপরাহ্ন

বিজয়ের ৫০ বর্ষপূর্তি করল বাংলাদেশ

এম এ বাবর
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১০ pm

বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরব ও বাঁধভাঙা আনন্দের দিন আজ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। আজ একই সঙ্গে লাখো স্বজন হারানোর শোকে ব্যথাতুর-বিহ্বল হওয়ারও দিন। এবার বিজয়ের ৫০ বর্ষপূর্তি পালন করছে বাংলাদেশ।

এবারের বিজয় দিবস নিয়ে এসেছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট। এ বছরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন এবং স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে বাংলাদেশ।

১৯৭১-এর এ দিনে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাম পৃথিবীর মানচিত্রে উৎকীর্ণ হলো। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাঙালি জাতি জাগ্রত হলো। তাই আজ বৃহস্পতিবার কৃতজ্ঞ জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীরসন্তানদের। দিনের শুরুতেই ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নামবে জনতার ঢল। শ্রদ্ধার সাথে তারা শহীদদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে। বঙ্গবন্ধুর বজ্রনিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ বাতাস হবে মুখরিত।

যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকবাহিনী দীর্ঘ নয় মাসে ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে, এ দিনেই সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে একরাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে।

একাত্তরের ৩ মার্চ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান পরে তা স্থগিত করে দেয়। এতে বাঙালি প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করে। রাজপথে স্লোগান ওঠে, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো। ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিলেন। ঘোষণা করলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ শুরু হয় সারা দেশে গণমানুষের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন। এরপর সামরিক চক্র আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে। তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অস্ত্র ও সৈন্য সমাবেশ ঘটাতে থাকে বাংলাদেশে। ২৫ মার্চ বর্বর পাক হানাদার বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে জাগ্রত জনতা গর্জে ওঠে। এরপর সামরিক শাসকচক্র বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতেই তার নির্দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথতলায় গঠিত হয় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বাংলার মাটি থেকে বিতাড়িত করতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি গ্রামে। দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের হাতে নিরীহ, সাধারণ ও বুদ্ধিজীবীসহ ৩০ লাখ মানুষ নির্মমভাবে হত্যা করে।

অন্যদিকে চারদিক থেকে পরাজিত হতে হতে পাক হানাদাররা বুঝে ফেলে যুদ্ধে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর সকালে লে. জে. নিয়াজী শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে পাঠালেন। মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে নিয়াজীর ওই প্রস্তাব পেয়ে বিকালে জেনারেল মানেক শ’র পাক সেনাদের জানিয়ে দেন, ‘শর্তহীন আত্ম সমর্পণ না করলে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি দেয়া হবে না।’ একই সাথে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর সকাল ন’টার মধ্যে বেতার জানতে হবে বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ করছেন কিনা। নইলে মিত্রবাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করবে বলে সাবধান বাণী উচ্চারণ করেন।

নিয়াজী শেষ পর্যন্ত স্থির করলেন যে, জেনারেল মানেক শ’র প্রস্তাবই মেনে নেবেন। পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী বেতারে নির্দিষ্ট তরঙ্গ মারপ্ত মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিনাশর্তে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সম্মিলিত বাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেন। ২৭৬ দিনের মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো। আত্মসমর্পণের দলিল অনুসারে ৯১ হাজার ৪৯৮ জন পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের সহযোগী এবং পরিবারবৃন্দ আত্মসমর্পণ করেছিল। তন্মধ্যে সর্বমোট যুদ্ধবন্দিদের মধ্যে ৫১ হাজার ৯৯৮ জন ছিল নিয়মিত সেনাবাহিনীর, ১৮ হাজার ২৮৭ জন আধা সামরিক বাহিনীর এবং ১৬ হাজার ২৯৩ জন ছিল বেসামরিক ব্যক্তি।

এদিন মুজিবনগর থেকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের জনগণের ও সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকার, মিত্রবাহিনী, মুক্তিবাহিনীর গৌরবজনক ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্বাধীন বাংলার সংবাদে আরো বলা হয়, যুদ্ধবন্দিদের সাথে জেনেভা চুক্তি মোতাবেক আচরণ করা হবে। যদিও বাংলাদেশ জেনেভা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এ ছাড়া সর্বত্র শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২১ উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রত্যুষে বিজয়ের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত সদস্যগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহকে জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদক দল বাদ্য বাজাবেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।

ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে এবং এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু বিকাশ কেন্দ্রসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সকল শিশু পার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হবে।

‘এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে-আজ সূর্যোদয় ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। ৮টায় ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল।

টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, শাহজাহান খান এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু এমপি ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ।

এদিকে বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচালনায় অনুষ্ঠিতব্য শপথ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতারা অংশ নেবেন। সারাদেশে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী জনগণকে সাথে নিয়ে উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে।

এ ছাড়া ১৮ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত বিজয় শোভাযাত্রা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে বিজয় শোভাযাত্রা আয়োজন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু ওবায়দুল কাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে সারাদেশে যথাযথ মর্যাদায় মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির কর্মসূচি : দিবসটি উপলক্ষে আজ ভোরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপির উদ্যোগে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দলের পক্ষ মহান শহীদদের উদ্দেশ্যে পুস্পার্ঘ অর্পণ করবেন। এছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আগামী ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে এবং দিবসটি উপলক্ষে আগামী ২০ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় গুলিস্তানস্থ মহানগর নাট্যমঞ্চে (কাজী বশির মিলনায়তন) বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিজয় দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে এবং আজ ভোরে দেশব্যাপী বিএনপির কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

বিজয় দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে স্থানীয় সুবিধাজনক সময়ে দেশব্যাপী বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় পার্টির কর্মসূচি : আজ সকাল ৬টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন। সকাল ৭টায় তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী : মহান বিজয় দিবস-২০২১ উদযাপন উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নির্ধারিত জাহাজসমূহ জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও বরিশালে দুপুর ২টা হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাহাজ পরিদর্শন করা যাবে।

নৌবাহিনীর যেসব জাহাজ পরিদর্শন করা যাবে সেগুলো হলো—ঢাকার বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটে বানৌজা তিস্তা, নারায়ণগঞ্জের পাগলা নেভাল জেটিতে বানৌজা অদম্য, চট্টগ্রামের নিউমুরিং নেভাল জেটিতে বানৌজা সমুদ্র অভিযান, খুলনায় বিআইডব্লিউটিএ রকেটঘাটে বানৌজা সালাম, মোংলায় দিগরাজ নেভাল বার্থে বানৌজা গোমতি ও বরিশালের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বানৌজা বরকত।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com