রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

কোমর ব্যথা সমস্যার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

কোমর ব্যথা সমস্যার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

ডা. মো. বাবুল আক্তার:
সাধারণত দেখা যায় মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথা হয়ে থাকে। চলাফেরা, খুব বেশি ভার বা ওজন তোলা, মেরুদণ্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া, সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে এ ব্যথা দেখা যায়।

কোমর ব্যথা সমস্যার যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিলে ব্যথা সারা জীবনের জন্য সেরে যায়। 
হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যথার কারণকে একেবারে রুট লেভেল থেকে নির্মূল করে দেয়...

অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, গেঁটে বাত, মেরুদণ্ডের স্নায়ুবিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসে সমস্যা, বিভিন্ন ভিসেরার রোগ, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

কোমর ব্যথার লক্ষণ বা উপসর্গ কোমরের ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উঠতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যথা মেরুদণ্ডের পেছন দিক দিয়ে মাথা পর্যন্ত উঠতে পারে। রোগী অনেকক্ষণ বসতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ব্যথার সঙ্গে পায়ে শিন-শিন বা ঝিন-ঝিন জাতীয় ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে, হাঁটতে গেলে পা খিঁচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যে কোনো এক পায়ে নামতে পারে।

কোমর ব্যথার চিকিৎসা:
কোমর ব্যথা সমস্যার প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তবে প্রয়োজনবোধে কিছু মেডিকেল টেস্ট করে যথাযথ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিলে কোমর ব্যথা সেরে যায় সারা জীবনের জন্য। হোমিও ওষুধ ব্যথার কারণটাকে একেবারে রুট লেভেল থেকে নির্মূল করে দেয়। এছাড়া আধুনিক ফার্মাকোথেরাপি, ফিজিওথরাপি ও সার্জারি মাধ্যমে কোমর ব্যথার চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু অনেক ব্যয় বহুল হওয়াতে এ পদ্ধতির চিকিৎসা নিতে পারেন না বেশিরভাগ মানুষ।

প্রতিকার ও পরামর্শ:
প্রতিদিন ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমাবেন। প্রচুর পানি খাবেন। বসা, দাঁড়ানো, হাঁটা ও জিনিস উত্তোলনের সময় মেরুদণ্ডের সঠিক ভঙ্গি মেনে চলুন। কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে কিছু তুলবেন না। পিঠের ওপর ভারি কিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন। উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙ্গা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না, সমান তোশক ব্যবহার করুন। বিছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না। অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন। সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না। কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিয়ে বসুন। নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত সোফা বা চেয়ারে বসবেন না। মেয়েরা হিলের জুতো পরবেন না। তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদণ্ড সাধারণ অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন। কোমর ঝুঁকে বাচ্চাকে কোলে নেবেন না। ঝাড়– দেয়া, টিউবওয়েল চাপার সময় কোমর সোজা রাখবেন।

লেখক: চিকিৎসক, ডাইনামিক হোমিওপ্যাথি, বাড্ডা, ঢাকা
ই-মেইল: babulakter@dr.com
মোবাইল: 0191 400 90 68


© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com