রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

হোমিও চিকিৎসায় মেছতা স্থায়ী ভাবে আরোগ্য হয়

হোমিও চিকিৎসায় মেছতা স্থায়ী ভাবে আরোগ্য হয়

প্রভাষক ডা. মো. জাকির হোসেন:
মুখের ত্বকে কালো বা বাদামী রঙের যে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে তাকে মেছতা বলা হয়। মেছতা যে কারোরই হতে পারে। তবে সাধারণত নারীরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। প্রায় সব বয়সী নারীদের ত্বকে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। মুখের অনাকাক্সিক্ষত দাগ ও এই মেছতা দূর করার জন্য অনেকে লেজার ট্রিটমেন্টও করান। তবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মেছতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

মেছতা কী এবং কেন হয়?
আমাদের ত্বকের নিচে মেলানিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে যা সূর্যরশ্মির প্রভাবে ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন উৎপন্ন হয়। কোনো কারণে ত্বকের বিশেষ জায়গায় এটির কার্যক্ষমতা বেশি হলে ত্বকের সেই অংশটি পার্শ্ববর্তী অংশের চেয়ে বেশি গাঢ় হয়ে যায়। ফলে ওই অংশটি কালো বা বাদামি থেকে হালকা বাদমি দেখায়। এতে ত্বকের কিছু কিছু জায়গায় গাঢ় কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়। যা মেছতা বা মেলাজমা নামে পরিচিত। গ্রিক শব্দ মেলাজ থেকে মেলাজমা শব্দের উপপত্তি যার অর্থ কালো। বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা ও সূর্যরুশ্মি মেছতা বৃদ্ধি করে থাকে। মেছতা গ্রিস্মপ্রধান ও সাবট্রপিক্যাল দেশগুলোতে যেখানে সূর্যরশ্মি প্রখর সেখানে আধিক্য দেখা যায়। গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে মেছতা দেখা দিতে পারে ও প্রসবের পর ধীরে ধীরে তা কমে আসে এবং পরবর্তী গর্ভাবস্থাগুলোতে আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। তকের যে সমস্ত জায়গা যেমন- উপরেরর গাল, নাক, ঠোঁট এবং কাপালে মেছতা দেখা দেয় যায় এবং সাধারণত ৩০-৪০ বছর বয়সের মধ্যে বেশি হয়।

মেছতার প্রকারভেদ
একে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়।
১। এপিডারমাল: যা ত্বকের বহিঃস্তরের উপরিস্তরে বিদ্যমান থাকে। যা চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা সম্ভব।
২। ডারমাল: যা ত্বকের বহিঃস্তরের নিচের স্তরে বিদ্যমান থাকে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসায় খুবই ভালো ফলাফল ভালো আসে না।
৩। মিশ্রিত: অর্থ্যাৎ যা ত্বকের অন্তঃস্তর ও বহিঃস্তরজুড়ে বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের মেছতায় অনেক সময় ভালো ফলাফল আসে না।

কী করবেন?

-বাইরে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং স্কার্ফ, ওড়না বা আঁচল মাথায় জড়িয়ে নিন। সম্ভব হলে চওড়া ঘোরের টুপি পরুন।
-ঘাড়-পিঠ ঢাকা, ফুলহাতা জামা পরুন।
-ব্লিচিং ফেসিয়াল শতভাগ এড়িয়ে চলুন।
-সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে রোধের মধ্যে কম বের হতে চেস্টা করুন। -জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ এবং হরমোন থেরাপি বন্ধ করতে হবে।
-বাইরে বের হলে সব সময় ছায়ায় থাকুন। সম্ভব হলে সব সময় ছাতা ব্যবহার করুন।
-রোদ থেকে বাঁচার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
-প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলমূল ও শাক-সবজি খাবেন, সেই সঙ্গে ত্বক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। চা কফি, অ্যালকোহল জাতীয় খাবার খাবেন না। এসব খাবার খেলে মেছতা বেড়ে যায়।

মেছতা দূর করতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান
* সপ্তাহে দুই দিন চালের গুঁড়া ও ডিম একসঙ্গে পেস্ট করে ত্বকে লগিয়ে ২ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে মেছতা দূর হবে ও একই সঙ্গে ত্বক নরম কোমল হবে
* টকদই মেছতা দুরী করনে খুবই কার্যকরী। সপ্তাহে তিন দিন ত্বকে টক দই লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। টক দই মেছতা দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।
* ভিনেগার ও সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে লাগালে মেছতা দূর হয়। সেই সঙ্গে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃন হয়।
* লেবুর রসে অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। যা সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। নিয়মিত লেবুর রস সামন্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
* মেছতার ওপর আঙ্গুলের সাহায্যে ধীরে ধীরে ঘৃত কুমারী পাতার রস রাতে লাগিয়ে রেখে সকালে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এভাবে কিছুদিন করলে দূর হবে।
* দারুচিনির পানি সেবনের সঙ্গে দারুচিনি চূর্ণ দুধের সরের সঙ্গে মেছতায় লাগালে মেছতা সেরে যায়।
আধুনিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
সঠিকভাবে লক্ষণভিত্তিক হোমিও প্যাথিক ওষুধের মাধ্যমে মেছতা স্থায়ীভাবে আরোগ্য করা সম্ভব। যেমন- লাইকোপোডিয়াম, সিপিয়া, ক্যাডমিয়াম সালফ, কার্ডুয়াস মেরী, নাক্স ভূমিকা, পালসেটিলা এবং সোল নামক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ রয়েছে যথাযথভাবে প্রয়োগ করলে আপনি এই মেছতা নামক রোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে পারেন।

লেখক: প্রভাষক, বঙ্গবন্ধু হোমিওপ্যাথি ইউনিভার্সিটি (প্র.), ঢাকা
মোবাইল: ০১৭১৭৮৩৪২১০
Zakir_bhms@yahoo.com


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com