রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

বন্ধুকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়ে স্ত্রীর গায়ে আগুন

বন্ধুকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়ে স্ত্রীর গায়ে আগুন

বগুড়ায় স্বামী ও তার বন্ধুর হাতে এক গৃহবধূর বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে স্বামী তার বন্ধুকে দিয়ে ধর্ষণের পর মাথার চুল কেটে দেয়াসহ শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বগুড়া শজিমেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী রফিকুল (২৬) ও তার অজ্ঞাত বন্ধু (২৫) পলাতক রয়েছেন।

নির্যাতিতা গৃহবধূ জানান, স্কুলে পড়া অবস্থায় বগুড়ার গাবতলি উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের প্রেমে পড়েন তিনি। সে সময় রফিকুল একটি বেসরকারি পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের অসম্মতিতে তারা বিয়ে করেন প্রায় ৯ বছর আগে। বিয়ের পর তারা শহরের চকলোকমান এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। রফিকুল একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসাবে কর্মরত রয়েছে বলে তার স্ত্রী জানান।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলসম্যান হিসাবে কাজ করতেন। কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়। তাদের ৮ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামী তাকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় জানুয়ারি মাসে রফিকুল তাকে মারপিট করে বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রেখে গিয়েছিলেন। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সে সময় তিনি উদ্ধার পেয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন।

এর পর থেকে স্বামী রফিকুল বাড়িতে আসতেন না। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের কিছু আগে ওই গৃহবধূ বাড়িতে একাই ছিলেন। এসময় তার স্বামী এক বন্ধুকে নিয়ে প্রাচীর টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রথমেই তার মুখ চেপে ধরে ঘরের ভেতরে নেয়া হয়। সেখানে হাত ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে মারপিট করা হয়। এর পর রফিকুল তার বন্ধুকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে অবস্থান করেন।

গৃহবধূর অভিযোগ এসময় স্বামীর বন্ধু তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে দু’ জন মিলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেল্ট জাতীয় কিছু দিয়ে একাধিক আঘাত করেন। এক পর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেয়া হয় এবং বোতলে থাকা এসিড বা দাহ্য জাতীয় পদার্থ শরীরে ঢেলে দেয়ার পর আগুন দিয়ে দু’জনই পালিয়ে যান।

নৃশংস নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কোনোভাবে ঘর থেকে বেরিয় এসে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তার মা ও ভাই একই এলাকায় থাকেন। খবর পেয়ে মেয়কে উদ্ধার করে তারা বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

গৃহবধূর মা জানান, তার মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করলেও পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মেনে নেয়া হয়েছিলো এবং চকলোকমান এলাকায় মেয়ে জামাই ভাড়া বাসায় থাকতেন।

এ ব্যাপারে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, নির্যাতিত মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Add

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com