মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

খুলনায় থানায় গণধর্ষণের প্রমাণ পায়নি পিবিআই

খুলনায় থানায় গণধর্ষণের প্রমাণ পায়নি পিবিআই

খুলনা জিআরপি থানার মধ্যে এক নারীকে গণধর্ষণ মামলার তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে মামলাটির তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠান ওই নারীকে লাঠি দিয়ে দু’টি আঘাত করেছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক শেখ আবু বকর রোববার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

পিবিআই কার্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সংস্থাটির পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, মামলাটি খুবই নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই নারীকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি। এছাড়া অন্যান্য সাক্ষ্যতেও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক শেখ আবু বকর জানান, ভুক্তভোগীকে ডিএনএ টেস্টের জন্য বলা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। এছাড়া মামলার এজাহারে তিনি ওসি ও একজন এএসআইসহ অজ্ঞাত তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করেছিলেন, যাদের তিনি দেখলে চিনতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু তাকে টিআই প্যারেড বা আসামি সনাক্ত করার জন্য জিআরপি থানায় যেতে বলা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার বলেন, ওসি উছমানের সঙ্গে বাদীর কোনো আপোষরফা হয়েছে কিনা তা তাদের জানা নেই। ওই নারীর বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালি এবং খুলনার দৌলতপুর থানায় মোবাইল চুরির দুটি মামলা রয়েছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওই নারী ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মারধর এবং ধর্ষণের দুটি মামলা করেছিলেন। মারধরের মামলায় রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ গত ১৬ জানুয়ারি ওসি উছমানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই মামলার চার্জশিটে অন্য চার পুলিশ সদস্যকে অব্যহতি দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ওই নারী আদালতে একটি এফিডেভিট দাখিল করেন। তাতে তিনি বলেন, মানুষের কুপ্ররোচণায় তিনি তাকে মারধরের মামলাটি দায়ের করেছিলেন। কারও বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই।

তবে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তার বড় বোন মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, তার বোন কোনো এফিডেভিট দাখিল করেছে কিনা তা তার জানা নেই। এছাড়া ওসি উছমান গণির সঙ্গে তার বোনের কোনো আপোষরফা হয়েছে কিনা তাও তিনি জানেন না।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে আটক করে। এরপর রাতে খুলনা জিআরপি থানার ওসি উছমান তাকে মারধর এবং ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তারা সবাই কনডম ব্যবহার করে। ৩ আগস্ট তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ আগস্ট ওসি উছমান ও এএসআই নাজমুল হককে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

গত ৯ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মারধরের অভিযোগে খুলনা জিআরপি থানায় মামলা করেন। এছাড়া গত ২৫ সেপ্টেম্বর জিআরপি থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Add

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com