মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

মিন্নি ও নয়ন বন্ডের গোপন বিয়ের বর্ণনা দিলেন কাজী

মিন্নি ও নয়ন বন্ডের গোপন বিয়ের বর্ণনা দিলেন কাজী

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আজ (২৮শে জানুয়ারি, মঙ্গলবার) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের কাজী মোঃ আনিচুর রহমান। একই দিনে আদালতে আরও সাক্ষ্য দিয়েছেন এ মামলার অপর দুই সাক্ষী মোঃ কামাল হোসেন এবং মিনারা বেগম। এ নিয়ে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে ২৯ জনের সাক্ষীগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আছাদুজ্জামান।

এ বিষয় রিফাত হত্যা মামলার বাদী পক্ষের মনোনিত আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু সাংবাদিকদের জানান, কাজী আনিচুর রহমান সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতে বলেছেন, ‘২০১৮ সালের ১০ই অক্টোবর মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিবাহ আমি সম্পন্ন করি। ওইদিন নয়ন বন্ডের কিছু বন্ধু আমাকে নয়ন বন্ডের বাসায় নিয়ে যায়। তখন নয়ন বন্ডের বাসায় নয়ন বন্ডের মা এবং মিন্নিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। নয়ন বন্ডের বাসায় বসেই পাঁচ লক্ষ টাকা দেনমোহরে মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিবাহ হয়।’

কাজী আরও জানান, ‘বিয়ে সম্পন্ন করার পর আমি যখন জানতে পারি মিন্নি বরগুনা পৌরসভার আবু সালেহ কমিশনারের ভাইর মেয়ে, তখন আমি সালেহ কমিশনারকে আমার মোবাইল দিয়ে কল দিয়ে মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের খবর তাকে জানাই। তখন তিনি আমাকে বিয়ের কথা গোপন রাখতে বলেন। এরপর, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও আমাকে ফোন করে বিবাহের বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করেন।’

আইনজীবী কিসলু আরও বলেন, ‘এরপর কাজী আনিচুর রহমান জানতে পারেন রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির ফের বিবাহ হয়েছে। রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের পরের দিন মিন্নির বাবা কাজিকে ফোনে বলেন, মিন্নি ও নয়ন বন্ড কাল তার কাছে যাবে। আপনি ওদের ডিভোর্স করিয়ে দিয়েন। কিন্তু, মিন্নির বাবার কথা অনুযায়ী ওইদিন তারা কাজীর কাছে আসেনি। এর পরেরদিনও ফোন করে কাজীকে একই কথা বলেন মিন্নির বাবা কিশোর। কিন্তু, তার পরের দিনও ডিভোর্সের জন্য মিন্নি ও নয়ন বন্ড কাজীর কাছে না আসলে কাজী এবার মিন্নির বাবাকে ফোন দেন। তখন মিন্নির বাবা কাজীকে বলেন, ওরা দু’জনে কমিটমেন্ট করেছে, ওদের বিয়ের কথা ওরা কাউকে জানাবে না। গোপন রাখবে।

সাক্ষ্যপ্রদানের সময় মিন্নি ও নয়ন বন্ডের বিয়ের কাজী মোঃ আনিচুর রহমান আদালতে তার বিবাহ রেজিস্টার বালাম উপস্থাপন করেছেন বলে জানান আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু।

গত ২৬শে জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ১লা সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক। পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবং মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয়জন আসামি জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।

গত ১লা জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ই জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Add

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com