মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

ক্যাসিনোকাণ্ডে উদ্ধার বিপুল টাকা ব্যয় হবে…

ক্যাসিনোকাণ্ডে উদ্ধার বিপুল টাকা ব্যয় হবে…

ক্যাসিনোকাণ্ডে উদ্ধার বিপুল টাকার ভবিষ্যৎ ঠিক করবে আদালত। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা কঠিন নয়।

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দ করা টাকা এখনই ব্যবহার করতে পারছে না সরকার। জব্দ করা টাকা মামলার আলামত হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পরই আদালতের সিদ্ধান্তে নির্ধারণ হবে সেই অর্থের ভবিষ্যত। বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের আইনজীবী জানিয়েছেন, পাচার করা টাকা ফেরত আনা কঠিন হবে না, দরকার সরকারের আন্তরিকতা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়াকে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে আটক করা হয়। তার নেতৃত্বে পরিচালিত ক্যাসিনো থেকে জব্দ করা ২৪ লাখ টাকা।

দুই দিন পর ২০শে সেপ্টেম্বর ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ও পৌনে দুইশো কোটি টাকার এফডিআরসহ আটক করা হয় গণপূর্তের ঠিকাদার জি কে শামীমকে।

গত ২৪শে সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের দুই নেতা এনামুল হক এনু ও রুপণ ভুইয়ার বাসা থেকে র‌্যাব উদ্ধার করে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা আর ৭২০ ভরি স্বর্ণ।

গত ২৬শে সেপ্টেম্বর তেজগাঁও মনিপুরীর বাসা থেকে আটক করা হয় মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে।তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন ৪১ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার অনলাইন জুয়ারি সেলিম প্রধানের বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ২৯ লাখ নগদ টাকা, ৭৭ লাখ টাকা সমমানের বিদেশি মুদ্রা ও আট কোটি টাকার চেক।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অস্ত্র ও মাদকের মামলা দেয়া হয়েছে, নেয়া হচ্ছে রিমান্ডে।

উদ্ধার হওয়া ও পাচার করা টাকার ভবিষ্যত কী। এমন প্রশ্নের জবাবে, বাংলাদেশের ব্যাংকের আইনজীবী মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান জানান, এসব অভিযানে জব্দকৃত স্বর্ণালংকার সরাসরি জমা হয়ে যায়।আর টাকা পয়সা আদালতের নির্দেশে আলামত হিসেবে সরকারের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। তবে জব্দকৃত টাকা সরকারের কাছে থাকলেও আদালতের নির্দেশনা ছাড়া এই টাকার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এসব টাকা ফেরত আনতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যদি উদ্যোগ নিয়ে সেসব দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে এগুলো আমাদের দেশের টাকা এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। তাহলে তারা যদি বিষয়টি খতিয়ে দেখে যে বাংলাদেশের কথাগুলোর সত্যতা আছে তারা টাকাগুলো পাঠিয়ে দিবে। তবে এই মুহুর্তে জব্দকৃত টাকা সরকার ব্যবহার করতে পারবে না।

এতো পরিমাণ নগদ টাকা ব্যাংকে না রেখে বাসায় রাখার উদ্দেশ্য এবং তাদের টাকার উৎস খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশনেরে একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com