মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

বড় চাকরি ছেড়ে সফল উদ্যোক্তা অঙ্কিতি

বড় চাকরি ছেড়ে সফল উদ্যোক্তা অঙ্কিতি

অঙ্কিতি বোস নামিদামি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের চাকরি করেছেন। তবে তার স্বপ্ন ছিলো উদ্যোক্তা হওয়ার। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে তার আইডিয়া নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নিজের একটি প্রতিষ্ঠন তৈরির জন্য। নিজের জমানো পুঁজি থেকে শুরু করা তার ব্যবসার পরিধি এখন আকাশচুম্বি।

মাত্র ২১ লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন অঙ্কিতি। চার বছরের মাথায় তা ৯ হাজার ৮০০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। মাত্র সাতাশ বছর বয়সে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন এই ভারতীয় তরুণী।

তবে, শুরুর গল্পটা ছিল একটু অন্যরকম। বাঙালি পরিবারে জন্ম হলেও, বাংলার বাইরেই বেড়ে ওঠা অঙ্কিতি বোসের। ২০১২ সালে মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। তারপর, মার্কিন কনসাল্টিং সংস্থা ম্যাকিনজি’র মুম্বাই শাখায় চাকরি শুরু করেন। সেখান থেকে যোগ দেন অন্য একটি মার্কিন সংস্থা সেকোয়া ক্যাপিটালসের বেঙ্গালুরু অফিসে।

অঙ্কিতির যখন তেইশ বছর বয়স তখন বেঙ্গালুরুতেই চব্বিশ বছর বয়সী ধ্রুব কাপুরের সঙ্গে আলাপ হয়। গুয়াহাটির আইআইটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে গেমিং স্টুডিয়ো কিউয়িআইএনসি’তে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ধ্রুব। চাকরি ছেড়ে নিজের মতো কিছু করার স্বপ্ন ছিল দু’জনেরই। প্রথমেই ই-কমার্স সাইট খোলার কথা মাথায় আসে তাদের। কিন্তু ভারতে তখন ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো সংস্থার আবির্ভাব ঘটে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠা যাবেনা বুঝেছিলেন তারা।

সে বছরই ব্যাংককে বেড়াতে গিয়ে চোখ খুলে যায় অঙ্কিতির। সেখানকার চতুচকবাজারে ঢুকে স্থানীয় ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক, জুতো, ব্যাগ, অ্যাকসেসরিজ ইত্যাদি নজরকাড়ে তার। ভাষাগত সমস্যা থাকায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষে সেগুলি বাইরের লোকের কাছে পৌঁছে দেয়া যাচ্ছে না বুঝতে পারেন তিনি। তখনই মাথায় আইডিয়া আসে।

দেশে ফিরে ধ্রুবর সঙ্গে আলোচনা সারেন অঙ্কিতি। চাকরি ছেড়ে ২১ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে কাজে লেগে পড়লেন তারা। গড়ে তোলেন অনলাইন মার্কেট প্লেস জিলিঙ্গো। তবে যাত্রা সহজ ছিলনা, মার্কেট রিসার্চেই প্রায় এক বছর লেগে যায় তাদের। ব্যাংককের বাজারে ঘুরেঘুরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনলাইন ব্যবসায় আগ্রহ গড়ে তোলা শুরু করেন অঙ্কিতি।

আর বেঙ্গালুরুতে বসে প্রযুক্তিগত দিকটা সামলাতে থাকেন ধ্রুব। দক্ষিণ এশিয়ার বাজার দখল করতেই আগ্রহী ছিলেন তারা। সেইমতো শুরু করেন কাজ। গত চার বছরে জিলিঙ্গো সিঙ্গাপুর, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, চীন, কোরিয়া এবং কম্বোডিয়ার বাজার দখল করতে সফল হয়েছে। ভারত এবং অস্ট্রেলিয়াতেও লেনদেন শুরু করেছেন তারা। কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশেও।

এক সময় যে সেকোয়া সংস্থার কর্মী ছিলেন অঙ্কিতি, আজ তারাও ২২ কোটি ৬০ লক্ষ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে তার প্রতিষ্ঠানে। বিনিয়োগ রয়েছে সিঙ্গাপুরের তামসেক হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেডের। এই মুহূর্তে জিলিঙ্গোর প্রযুক্তিগত প্রধান (সিটিও) হিসেবে বেঙ্গালুরুতে ১০০ কর্মীকে নেতৃত্ব দেন ধ্রুব। আর , সিইও হিসেবে সিঙ্গাপুরে সংস্থার সদর দপ্তর সামলান অঙ্কিতি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com