শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

মিল্ক ভিটাকে বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দ দেওয়া ৪ হাজার একর জমি বেদখল

মিল্ক ভিটাকে বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দ দেওয়া ৪ হাজার একর জমি বেদখল

সরকারের মালিকানাধীন সমবায় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডকে (মিল্ক ভিটা) গোচারণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বরাদ্দ দেওয়া পাঁচ হাজার একর জমির মধ্যে চার হাজার একর জমি বেহাত হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

পাবনা ও সিরাজগঞ্জে এসব জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। বেহাত হওয়া এসব জমি দীর্ঘদিনেও উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এছাড়া বৈঠকে মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু উপস্থিত না থাকায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিটি।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিল্ক ভিটাকে পাঁচ হাজার একর জমি বরাদ্দ দেন। বেহাত হতে হতে এখন মিল্ক ভিটার হাতে এক হাজার একরের মতো জমি আছে। মিল্ক ভিটার কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে অসাধু লোকজন জমি বরাদ্দ দিয়ে দখল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে জমি দখল করেছে।

তিনি বলেন, এসব জমি উদ্ধারে মিল্ক ভিটা কখনও আইনি লড়াইয়ে যায়নি। কমিটি এ জমি উদ্ধারে মিল্ক ভিটাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

আ স ম ফিরোজ আরও বলেন, মিল্ক ভিটার দুধে যে পরিমাণ সিসা পাওয়া গেছে তা পানি থেকে গবাদি পশুর শরীরে যায়। আমরা এ বিষয়ে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার সুপারিশ করেছি।

এছাড়া মিল্কভিটার আয়-ব্যয় ও মুনাফা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কমিটি বার্ষিক দুধ উৎপাদন ৩ লাখ লিটারে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে ৯০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয় বলে কমিটিকে জানানো হয়েছে।

মিল্কভিটার লাভ বছরে বছরে কমে আসছে উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ বলেন, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মিল্কভিটার মুনাফা হয়েছিলো ১১ কোটি ৪০ লাখ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই লাভ হয়েছে ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যদি লাভ বেশি হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক আমলে লাভ কম হচ্ছে কেন? মিল্কভিটাকে তাদের মুনাফা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ, সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ওমর ফারুক চৌধুরী, ইসমাত আরা সাদেক, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং জিল্লুল হাকিম।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com