শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

ডিপ ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের উপায়

ডিপ ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের উপায়

কোরবানির ঈদে পশু জবাই দেবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘর মাংসে ভরে যায়। সেসব মাংস সংরক্ষণের দায়িত্ব এসে পরে গৃহিণীদের উপর। একসঙ্গে প্রচুর মাংস সংরক্ষণ করতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খেয়ে থাকেন। কারণ মাংস সংরক্ষণের সময় মাথায় রাখতে হয় বেশ কিছু বিষয়। যাতে করে মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আজকের এই লেখায় জানিয়ে দিবো সহজে কোরবানির কাঁচা মাংস সংরক্ষণ করার দারুন কিছু পদ্ধতি।

পূর্ব প্রস্তুতি

কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করার জন্য প্রয়োজন কিছু পূর্ব প্রস্তুতির। আগেই ডিপ ফ্রিজের পুরানো খাবার সরিয়ে ফেলুন। ফ্রিজ একদম খালি করে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলাই ভালো। আগে থেকে জমে থাকা রক্ত ও ময়লা থেকে জীবাণু মাংসের স্বাদ-গুণ নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ফ্রিজের পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরী। সেই সঙ্গে আগেই জমিয়ে রাখুন বড় বড় আকৃতির অনেকগুলো পলিথিন ব্যাগ। এখন বাজারে জিপবাগ কিনতে পাওয়া যায় চাইলে সেগুলোও কিনে রাখতে পারেন। কারণ ঈদের দিন আপনাকে পলিব্যাগে করেই মাংসগুলো ফ্রিজে রাখতে হবে। সেই সাথে খেয়াল রাখুন কসাইয়ের মাংস কাটার স্থানটি যেন পরিচ্ছন্ন হয়। ধূলাবালিযুক্ত স্থানে মাংস কাটলে রান্নার সময়ে খাবার বালি বালি লাগতে পারে।

 

 

 

এবার আসি মাংস সংরক্ষণ পর্বে। যদিও সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো ফ্রিজে রেখে মাংস সংরক্ষণ করা। কিন্তু এতেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।

 

সাধারণত জবাইয়ের অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মাংসে রক্ত থাকে। সে অবস্থায় কোনো ভাবেই মাংস ফ্রিজে রাখা যাবে না। মাংস সংরক্ষণের আগে ভালোভাবে ধুয়ে রক্ত পরিষ্কার করে নিন। এবার বড় চালনিতে করে মাংসের পানি ঝরিয়ে ফ্যানের নিচে রেখে শুকাতে দিন। সব পানি ঝরে গেলে পলিথিনের প্যাকেটে ভরে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।

 

 

মাংস যদি ধুতে না চান তাহলে পরিষ্কার শুকনা কাপড় দিয়ে মাংসের গায়ে লেগে থাকা রক্ত ভালমতো মুছে নিন। এবার পলিথিনে করে ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করুন। ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের জন্য একটু মোটা পলিথিন ব্যবহার করাই ভালো। তাহলে ফ্রিজ থেকে মাংস বের করার সময় প্যাকেট ছিঁড়ে যাবে না। মাঝে মাঝে ফ্রিজে রাখা প্যাকেটগুলো একটু নাড়াচাড়া করুন। এতে করে প্যাকেট একটার সঙ্গে অন্যটা লেগে যাবে না। মাংস সংরক্ষণ করার জন্য অবশ্যই পরিষ্কার পলিথিন ব্যবহার করুন। আগে ব্যবহার করা হয়েছে এমন পলিথিন না নেওয়াই ভালো, কারণ এতে মাংসে গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফ্রিজে মাংস রাখার পর তাপমাত্রা কমিয়ে দিন। তাহলে মাংস দ্রুত জমে শক্ত হবে।

 

এছাড়াও আরো দুটি উপায় রয়েছে:

সবার আর্থ সামাজিক অবস্থা এক হয় না। গ্রামে শহরের মত সবার ঘরে ঘরে ফ্রিজ নেই। কাজেই নিচের উপায় দুটি অবলম্বন করলে তারা অনায়াসে অনেক দিন মাংস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

 

জ্বাল দিয়ে মাংস সংরক্ষণ :

যদি জ্বাল দিয়ে মাংস সংরক্ষণ করতে হয় তবে সেক্ষেত্রে মাংসে চর্বির পরিমাণ একটু বেশি থাকাই ভালো। কারণ এতে মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে। প্রথমে মাংস ভালোভাবে ধুয়ে বড় একটা হাড়িতে নিন। এবার হলুদ ও লবণ মিশিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে মাংস জ্বাল দিন। এ পদ্ধতিতে দিনে কমপক্ষে ২ বার নিয়ম কওে মাংস জ্বাল দিতে হবে।

 

রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ :

রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ করতে হলে চর্বি ছাড়া মাংস নিতে হবে। প্রথমে মাংস পরিস্কার করে ধুয়ে ছোট টুকরা করে নিন। এরপর একটি লম্বা তারে একটার পর একটা মাংস গেঁথে নিন। কাপড় শুকানোর মতো করে ছাদে বা বারান্দায় গাঁথা মাংস টানিয়ে দিন। এছাড়া চুলার উপরে তার বেঁধেও আগুনের তাপে মাংস শুকানো যায়। এই উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করলে মাংসের সমস্ত পানি টেনে মাংস একদম শুকিয়ে যায়, ফলে দীর্ঘদিন তা ভালো থাকে। ছাদে মাংস শুকাতে হলে পাতলা কাপড় বা নেট দিয়ে মাংস ঢেকে দিন। এতে করে ধুলোবালি পড়ে মাংস নোংরা হবে না। পরপর ৫-৬ দিন মাংস রোদে দিন। মাংস শুকিয়ে একদম শক্ত হলে মুখ বন্ধ করা পাত্রে বা টিনের কৌটায় মাংস ভরে ভালো করে মুখ বন্ধ করে রাখুন। মাঝে মাঝে কৌটা ধরে মাংস রোদে দিন। তাহলে পোকার আক্রমণ হবে না। রোদে শুকানো মাংস রান্না করার কমপক্ষে ১ ঘন্টা আগে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে মাংস নরম হবে।

গরুর মাংসে ২৩ থেকে ২৭ শতাংশ প্রোটিন থাকে, যা অত্যন্ত উচ্চ মানের। এছাড়া এই মাংসে লৌহ, ফবফরাস ও ভিটামিন ডি থাকে। তাই মাংসের পুষ্টিগুণ যাতে অতি সহজেই নষ্ট না হয় সেজন্য সঠিক নিয়মে মাংস সংরক্ষণ করা উচিত। আর অল্প তাপে বেশি সময় ঢেকে রান্না করলে মাংসের ভিটামিন সুরক্ষিত থাকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com