সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :

নিউজ পোর্টাল ও আইপি টেলিভিশন  আজকাল২৪.কম-এ ঢাকা সিটির প্রতি থানা ও সারেদেশে "রিপোর্টার/সংবাদদাতা" নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন aajkaalbd@gmail.com

ষষ্ঠ বারের মতো কারাগারে ঈদ কাটছে খালেদা জিয়ার!

ষষ্ঠ বারের মতো কারাগারে ঈদ কাটছে খালেদা জিয়ার!

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এবারের ঈদও কাটছে হাসপাতালে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ত ও জিয়ার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কারাবন্দি রয়েছেন এই নেত্রী। এবারেরেঈদ নিয়ে কারাবন্দি অবস্থায় ছয়টি ঈদ কাটবে বেগম খালেদা জিয়ার।

এদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন মামলায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত থাকায় বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও ঈদ করবেন লন্ডনে। আর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামী আলমগীর ঈদ করবেন নিজ জেলা ঠাকুরঘাঁওয়ে।

এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ঈদ করবেন দেশের বাইরে এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

এর বাইরে দলের অন্য সিনিয়র নেতারা ঈদ করবেন ঢাকা ও নিজ নিজ এলাকায়। তবে তারা সকালে নিজ এলাকায় ঈদ করে বিকেলেই আবার ঢাকায় ফিরবেন বলে জানা গেছে সূত্রের বরাত।

এদিকে এনিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো কারাগারে ঈদ হবে খালেদা জিয়ার। এর আগে ১/১১ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দু’টি ঈদ কারাগারে কাটাতে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপাসনকে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ঘোষিত সাবজেলে ওই দুই ঈদে খালেদা জিয়ার পাশের আরেকটি সাবজেলে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাবজেলে থাকার সময় ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর প্রথম উদযাপিত হয় রোজার ঈদ। এরপর ২০০৭ সালের ২১ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদও ওই সাবজেলেই উদযাপন করেন তিনি।

খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর কয়েকবার গ্রেপ্তার হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে তখন তাকে বেশি দিন বন্দি থাকতে হয়নি।

এদিকে ঈদুল আযহার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এবিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল যে, ঈদুল আযহার আগেই খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন। কিন্তু মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে দেশবাসী এবং বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনা হয়। সেই থেকে বেগম জিয়া হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে বিএনপি এবং সরকার ও হাসপাতালপক্ষ পাল্টা বক্তব্য দিচ্ছে। বিএনপির দাবি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ। বারবার ইনস্যুলিন পরিবর্তন এবং ইনস্যুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করার পরেও কোনো অবস্থাতেই তার সুগার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো সময় এটি ২৩ মিলিমোল পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে খাবারের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেয়ায় শরীরের ওজন অনেকখানি হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে।

খালেদা জিয়ার অবস্থার বিষয়ে বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বলেন, আমি বলব, উনি ভালো আছেন। আপনারা দেখেছেন উনাকে। উনাকে দেখে মনে হয়েছে কি উনি খুব বেশি অসুস্থ? উনি ভালো আছেন। আগে যেভাবে এসেছিলেন, তার চেয়ে বেটার, ডেফিনেটলি বেটার আছেন, বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত খালেদা জিয়া। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে অন্তরীণ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com