সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :

নিউজ পোর্টাল ও আইপি টেলিভিশন  আজকাল২৪.কম-এ ঢাকা সিটির প্রতি থানা ও সারেদেশে "রিপোর্টার/সংবাদদাতা" নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন aajkaalbd@gmail.com

মিন্নির জবানবন্দি কী পাবেন তার আইনজীবীরা?

মিন্নির জবানবন্দি কী পাবেন তার আইনজীবীরা?

তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় অভিযুক্ত মিন্নি ১৬৪ ধারায় প্রদানকৃত দোষ স্বীকারোক্তির নকল বা প্রত্যয়িত লিপি পাবেন কি?

সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলার মূল সাক্ষী এবং পরে অভিযুক্ত হিসেবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করা মিন্নিকে জামিন প্রদান করেন নি।

মহামান্য আদালত মিন্নির ১৬৪ ধারার জবানবন্দী দেখতে চাইলে অভিযুক্ত পক্ষ জানান তাদেরকে মিন্নির ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তির নকল কপি সরবরাহ করা হয়নি। তারা চাইলেও দেয়া হয়নি।

মহামান্য হাইকোর্ট তখন জবানবন্দী দেখা ব্যতীত জামিন প্রদান করবেন না মর্মে জানালে মিন্নির আইনজীবী জামিনের আবেদন ফেরত নেন। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মিন্নির আইনজীবী পুনরায় দোষ স্বীকারোক্তির নকলের জন্য আবেদন করবেন বা না দিলে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করবেন মর্মে জানিয়েছেন।

প্রশ্ন হলো অভিযুক্ত মিন্নি তার ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তির
নকল বা প্রত্যয়িত লিপি পাবেন কিনা?
আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার একজন অভিযুক্তদের সাংবিধানিক অধিকার। নিঃসন্দেহে মিন্নির এই অধিকার রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আপাতত একমাত্র প্রমাণ হলো তার দেয়া দোষ স্বীকারোক্তি। মিন্নি ইতোমধ্যেই তার দেয়া দোষ স্বীকারোক্তি অস্বীকার করেছেন। আইনের ভাষায় যেটাকে বলা হয়- প্রত্যাহার।

কিন্তু, তদন্ত শেষ এবং বিচার শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই প্রত্যাহার এর কোন আইনগত মূল্য নেই। মিন্নি দাবী করছেন তিনি পুলিশের শেখানো মতে বক্তব্য দিয়েছেন বা তিনি দোষ স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় করেননি। যেহেতু এগুলো মিন্নি দাবী করেছেন সেহেতু এই বিষয়গুলো তাকেই প্রমান করতে হবে বিচারের সময়। কিন্তু, মামলার তদন্তাধীন পর্যায়ে এর কোন ফলাফল নেই। এটি বিচারের বিষয়।

প্রশ্ন হলো- প্রত্যাহার কিভাবে হবে? অর্থাৎ অভিযুক্ত ১৬৪ ধারার বক্তব্য প্রত্যাহার বা অস্বীকার করতে চাইলে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য পুনরায় দেখার দরকার আছে কিনা?

বক্তব্য প্রত্যাহার অভিযুক্ত যে কোন পর্যায়ে করতে পারেন। এটা তার ডিফেন্স। আর ডিফেন্স ঠিক আছে কিনা বা যৌক্তিকতা আছে কিনা সেটা বিচারকারী বিজ্ঞ আদালত দেখবেন। সুতরাং, আমলী বা অন্য কোন আদালতের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের কোন সুযোগ নেই।

বক্তব্য প্রত্যাহার এর জন্য ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তি দেখার কোন দরকার নেই। কারন বক্তব্য প্রত্যাহার এর মূল বিষয় হলো ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক ভাবে ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহন করেননি। আইন মানেননি। অভিযুক্তকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে প্রভৃতি।

ম্যাজিস্ট্রেট একটি নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে থাকেন। অর্থাৎ এটা পদ্ধতিগত বিষয়ে দাবী করা হচ্ছে। একই সাথে অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় যা বলে সেটাও অস্বীকার করে।

ম্যাজিস্ট্রেট ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি নেওয়ার সময় শুধু প্রসিডিউরাল বিষয় দেখেন। যেমন- অভিযুক্তকে বুঝিয়ে বলা যে, তিনি ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ নন। তিনি আদালতের হেফাজতে আছেন,পুলিশের হেফাজতে নেই। তিনি যদি দোষ স্বীকার করেন, তবে বিচারের সময় সেটি তার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে।

আদালত এই বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলেন অভিযুক্তকে যে কোন ধরনের ভয় ভীতি, প্রলোভন প্রভৃতি থেকে বের করে আনার জন্য। অভিযুক্তকে চিন্তা ভাবনার জন্য ৩ ঘন্টা সময়ও দেয়া হয়। এরপর, অভিযুক্ত বলতে চাইলে জুডিসিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

ভিন্ন কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এই দোষ স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী যথাযথভাবেই করা এবং লিপিবদ্ধ হয়েছে বলে গন্য করা হয়। “ভিন্ন কিছু” প্রমাণ করার সুযোগ একজন অভিযুক্ত বিচার কালে পান, তদন্তকালে নয়।

অভিযুক্ত সত্য বলেছেন কিনা সেটা পুলিশ রেগুলেশন অব বেংগল( পি আর বি) অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখবেন। ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তির সব বক্তব্য সত্য নাও হতে পারে। সেটা দেখা তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব। এর জন্য তিনি আবার রিমান্ডও চাইতে পারেন।

সুতরাং, বক্তব্য প্রত্যাহার এর জন্য ১৬৪ ধারার জবানবন্দির কপি দরকার নেই। এছাড়াও অভিযুক্ত নিজেই বলেছে সে জানে কি রেকর্ড করা হয়েছে। সে পড়তে পারলে মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী সে নিজেই পড়ে তার বক্তব্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে স্বীকার করে স্বাক্ষর করেছে। সে পড়তে না পারলে তাকে পড়িয়ে শোনানো হয়েছে। বিষয়টা তার একান্তই জ্ঞানের বলে ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তির কপি তদন্তকালে পুনরায় দেখার কোন সুযোগ নেই।

মিন্নি তার দেয়া জবানবন্দীর অনুলিপি পাবেন কিনা?
উত্তর হলো- অবশ্যই পাবেন। কিন্তু সেটি তদন্ত সমাপ্তির পরে। অর্থাৎ পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালত তদন্ত রিপোর্ট গ্রহন না করা পর্যন্ত মিন্নি তার দেয়া দোষ স্বীকারোক্তির কপি পাবেন না।

পুলিশি তদন্ত একটি গোপন বিষয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে তার করা সব কাজ বা নেয়া সব পদক্ষেপ একটি ডায়েরিতে সংরক্ষণ করেন যেটাকে বলা হয় কেস ডকেট ( সি ডি) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেস ডকেটের সব তথ্য গোপনীয়।

১৬৪ ধারার বক্তব্য তদন্তের অন্যতম অনুসংগ। এটি সিডি এর অংশ। ফলে এটা মামলার নথির সাথে থাকতে পারে না। এটা মামলার তদন্তকারী অফিসার বা কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছে থাকে যা পিআরবি এর বিধান অনুযায়ী শুধুমাত্র আদালত, তদন্তকারী কর্মকর্তা, তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা, কোর্ট ইন্সপেক্টর বা তাদের উর্ধতন কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ বা অভিযুক্ত বা তাদের আইনজীবী দেখতে পারেন না।

এর মূল কারণ হলো- তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষা করা। তদন্তের সময়ে যদি এর নকল কপি সরবরাহ করা হয় তবে তদন্তের কোন কিছুই আর গোপন থাকবে না। সাক্ষ্য প্রমান ধবংস করাসহ অন্য অভিযুক্তরা সাবধান হয়ে যাবেন বা পালিয়ে যাবেন বা আরো অনেক কিছুই হতে পারে।

সুতরাং, তদন্তের স্বার্থেই ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তির নকল সরবরাহ করা বা পিআরবিতে উল্লেখিত ক্ষমতাবান ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কাউকে দেখতে দেয়া যাবে না।

অপর একটি কারন হলো- তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১৬৪ ধারার দোষ স্বীকারোক্তি নথির অংশ নয়। নথির অংশ না হওয়ায় এটার নকল দেয়া যাবে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com