সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নয় বছরের শাসনামল

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নয় বছরের শাসনামল

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নয় বছরের শাসনামলের প্রভাব কোনো কোনো ক্ষেত্রে এখনও রয়েছে। তার আমলে যেমন গণতন্ত্রের লেশমাত্র ছিল না তেমনি উপজেলা পদ্ধতি চালু, ওষুধ নীতি প্রণয়ন কুড়িয়েছিল প্রশংসা। দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তারকাল হিসেবেও চিহ্নিত এরশাদ আমল।

গেল শতকের বিরাশি থেকে নব্বই- এই নয় বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ক্ষমতায় থাকার সময় এবং পরবর্তীতে এরশাদের বিরুদ্ধে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ঊনিশশো ছিয়াশিতে ব্রিটেনের দ্য অবজারভার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে দেড়শ মিলিয়ন ডলার পাচার করেন এরশাদ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতির মামলায় কারাগারেও থাকেন তিনি।

এরশাদ আমলে সবচেয়ে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল উপজেলা পদ্ধতি। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সরকারি সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য চালু করা এই পদ্ধতি সচল আছে।

উচ্চ আদালতের বিচারের জন্য মানুষকে রাজধানীতে আসা বন্ধ করতে হাইকোর্টের ছয়টি বেঞ্চ ঢাকার বাইরে স্থাপনের চেষ্টা করেন এরশাদ। কিন্তু আইনজীবীদের ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন এরশাদ। ১৯৮২ সালে প্রণয়ন করেন ওষুধ নীতি। যার ফলে কমে আসে ওষুধের দাম, ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও।

রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন এরশাদ। এর প্রভাবে ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। যদিও রাষ্ট্রধর্মের স্বীকৃতি বাতিল করেনি পরবর্তী কোনো সরকারও।


© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com