মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৯, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, নতুন এলাকা প্লাবিত

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, নতুন এলাকা প্লাবিত

দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। তিস্তা, ধরলা, যমুনা ও ব্র্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৪৬, যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।

টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, শেরপুর ও বগুড়া অঞ্চলে আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়েছে। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীতে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি বইছে। তিস্তার পানির তোড়ে উপজেলার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ি, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারীর নদীর তীরবর্তি বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে পানি।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ২২, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষজন। এছাড়া তীব্র আকার ধারণ করেছে নদী ভাঙ্গন।

ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর ৫টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১০ হাজার পরিবার। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে চরাঞ্চল কামারপুর, রহদহ, ঘুঘুদহ, চন্দনবাইশা, ধলিকান্দি ও কুতুবপুরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জে নতুন করে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ইসলামপুরের চিনাডলি ইউনিয়নের বামনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল স্রোতে রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ অংশে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুরে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ উচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানালেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা।


© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com