বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

যে কারণে গাছের গা থেকে পেরেক তোলা হয়

যে কারণে গাছের গা থেকে পেরেক তোলা হয়

গাছের জীবন আছে তাই তারও যন্ত্রণাও আছে। এই বিশ্বাস থেকে গাছের যন্ত্রণা লাঘবে গত এক বছর ধরে কাজ করছেন যশোরের ওয়াহিদ সরদার। যশোর ও আশপাশের আরো ৩ দিন জেলায় প্রায় ৮শ’ কিলোমিটার সড়কের পাশের নানা বয়সী গাছ থেকে অপসারণ করছেন পেরেক, তার ও লাইনের দড়ি। আর দীর্ঘ ১৩ বছরে ২০ হাজারের অধিক গাছ লাগিয়েছেন তিনি। যার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে নেন বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার।

পেশায় রাজমিস্ত্রি ওয়াহিদ সরদার গাছের গা থেকে পেরেক তোলেন। তিনটি শাবল ও বাইসাইকেল নিয়ে প্রতিদিন যশোর সদর উপজেলার সাড়াপোল গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। সাইকেলের সামনে একটি সাইনবোর্ড বাঁধা। তাতে গাছে পেরেক মারার ক্ষতি বিষয়ে সতর্ক বার্তা লেখা।

ওয়াহিদের দাবি ‘গাছের সঙ্গে তার সখ্য শিশুকাল থেকেই। তবে শুরুটা ২০০৬ সাল এ পর্যন্ত ২০ হাজারের অধিক গাছ লাগিয়েছেন।’ যার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার পান। এ পুরস্কার তাকে অনুপ্রাণিত করে।

এরপর গাছ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এমন অনুভূতি থেকে তিনি গাছের শরীরে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড ঝুলানো বন্ধ ও তা অপসারণে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। আশ্বাস দিলেও প্রশাসন কাজটি না করায় নিজেই ২০১৮ সালের ৪ জুলাই বেরিয়ে পড়েন গাছকে যন্ত্রণা থেকে রক্ষার অভিযানে।

ওয়াহিদ সরদার বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে আমি গাছ লাগাই। এ পর্যন্ত আমার লাগানো প্রায় সাড়ে ১৪ হাজারের বেশি গাছ বেঁচে আছে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার দেয়া অর্থের সহায়তায় বানানো শাবল দিয়ে ভয় ও শঙ্কাকে উপেক্ষা করে এ পর্যন্ত প্রায় ৮শ’ কিলোমিটার সড়কের পাশের গাছ থেকে পেরেকে ও সাইনবোর্ড অপসারণ করেছেন তিনি।

ওয়াহিদ সরদার বলেন, আমাকে দুইবার করে যেতে হয়েছে, প্রথমবার আমাকে পেরেক উঠাতে হয়েছে। পরে মানুষকে সচেতন করেছি। পরবর্তীতে আমি পেরেক ব্যানার যা কিছু পেয়েছি পরিষ্কার করতে করতে গেছি।

শিক্ষিত মানুষের বৈরি আচরণের কারণে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মারা পড়ছে গাছ। তাই পরিবেশ আইন বাস্তবায়নের জোর দাবি এ গাছ দরদীর।

ওয়াহিদ সরদার বলেন, ২০১২ সালে যে আইন গ্যাজেট হয়েছে সেই আইনটা যেনো জরুরি ভাবে ঘোষণা দিয়ে কার্যকর হয়। তাহলে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করতে পারবো।

ওয়াহিদ সরদারের এ কাজকে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী শুরুতে ভালো চোখে না দেখলেও সময়ের পরিক্রমায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে।

এলাকাবাসীরা বলেন, গাছ প্রকৃতির প্রাণ যে মানুষ সেই গাছের কষ্ট নিয়ে কাজ করে সে এবং তার কাজ খুব মহৎ।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক পরিবেশ দিবসের সম্মাননার পাশাপাশি তাইওয়ান ভিত্তিক দি সুপ্রিম মাস্টার চিং হাই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক সম্মাননা সনদ ও অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। গত এক বছরে গাছ থেকে ৬ মণ ১০ কেজি পেরেক উত্তোলনকারী ওয়াহেদ সরদার কেবল চার জেলায় নয় সারাদেশে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ কাজটি চালিয়ে যেতে চান।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com