মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ০২:১৫ অপরাহ্ন

গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স এ যাবৎ কালের রেকর্ড

গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স এ যাবৎ কালের রেকর্ড

সরকারি নানা পদক্ষেপ ও প্রনোদনা ঘোষণায় বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। যা এ যাবৎ কালের রেকর্ড। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ খাতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে।

একটা সময় ছিলো দেশের বাইরে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ দেশের মাটিতে পাঠাতে বেশ বেগ পেতে হতো প্রবাসীদের। ব্যাংকিং চ্যানেলে যে ধরণের সুবিধা দেয়া হতো তার থেকে অনিরাপদ চ্যানেল বিশেষ করে হাতে হাতে অথবা হুন্ডির মাধ্যমে সহজে আত্নীয় পরিজনের হাতে সহজে অর্থ পৌছে দেয়া হতো। ফলে, বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো কম হতো বেশি ছিল হুন্ডিতে।

সময় বদলেছে। পরিবর্তন এসেছে ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায়। সুগম হয়েছে বৈধ উপায়ে, নিরাপদ ও সহজে টাকা পাঠানোর পথ। ফলে বাড়ছে প্রবাসীদের অর্থ দেশে পাঠানোর পরিমাণও। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসেব বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম ৮ মাসে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার দেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গেল জুনে দেশে এসেছে ১শ ৩৬ কোটি ৮০ লাখ। সবচেয়ে বেশি আয় মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গেল এক বছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। যা এযাবৎ কালের রেকর্ড।

উৎসব ঘিরে এ অর্থ পাঠানোকে স্বাভাবিকই দেখছেন এবিবির সাবেক প্রেসিডেন্ট, নুরুল আমিন। সেই সাথে অনেক বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা অদক্ষ শ্রমিকদের দক্ষ হওয়া, বাজেটে সরকারের প্রণোদনার ঘোষণা এবং নিরাপদ মোবাইল ও ই-ব্যাংকিং সিস্টেম গড়ে উঠার কারণে এ সাফল্য।

বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সুবিধা আরো বাড়তে থাকলে এ প্রবাহ দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি হবে। এতে দেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামাজিক অবস্থারও পরিবর্তন হবে বলে মত ব্যাংকার ও গবেষক ড. মুস্তাফিজ মুনীরের।

এবারের এ রেমিট্যান্স সাফল্যে দেশের রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ২৫৭ কোটি ডলার। গত মাসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এর পরের অবস্থানে আছে ডাচ-বাংলা এবং অগ্রণী ব্যাংক।


© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com