মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) শিবনাথ রায়।

৮ জুলাই সোমবার সলিডারিটি সেন্টার- বাংলাদেশ আয়োজিত গুলশান-১ এ অলিভস হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘তৈরি পোষাক শ্রমিকদের জন্য অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা উন্নয়ন: অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

এছাড়াও প্রতিটি গার্মেন্টস কারখানায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর বিধান মোতাবেক শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, সেইফটি কমিটি গঠন ও এর কার্যকর পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিও আহ্বান জানান।

শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, ডেনমার্ক সরকারের সহযোগিতায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে একটি পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সলিডারিটি সেন্টার- বাংলাদেশ এর কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জনহার্টো এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার এর প্রতিনিধি কিথ এল. গডার্ড।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সলিডারিটি সেন্টার এর প্রোগ্রাম অফিসার মো: রাকিবুল হাসান এবং সভা সঞ্চালনা করেন সিনিয়র লিগ্যাল কাউন্সিলর একেএম নাসিম।

অলোচনা সভায় বিজিএমইএ, আইএলও, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিল্্স, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট- ব্লাস্ট, সেইফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি, থ্রি এফ, ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশন, সিএন্ড এ ফাউন্ডেশন, ফ্রেডরিকই বার্ট স্টিফটুং, ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নসহ গার্মেন্টস সেক্টরের নেতৃত্বশীল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সমূহের প্রতিনিধি বৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

বক্তাগণ গার্মেন্টস শ্রমিকদের সুরক্ষায়তাদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য সরকার, গার্মেন্টস পণ্যের বায়ার ও ব্রান্ডস, কারখানামালিক, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচকগণ বলেন, ‘দেশের মোট রপ্তানির ৮২ ভাগই হয় গার্মেন্টস শিল্প থেকে, এই শিল্পে নিয়োজিত আছে ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক এবং জিডিপিতে অবদান ১৮ শতাংশ। গার্মেন্টসে নিয়োজিত বেশির ভাগ শ্রমিকই যক্ষা, মেরুদন্ডে ব্যথাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত।

নারী শ্রমিকরা যৌন হয় রানিসহ নানাবিধ ঝুঁকির সম্মুখীন। তাই গার্মেন্টস শিল্পের অব্যাহত অগ্রগতি ধরে রাখতে চাইলে এই শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বক্তাগণ এসডিজি’র ৮ নং লক্ষমাত্রা‘শোভনকাজ’এর টার্গেট অর্জনে কারখানা মালিকদের আরো সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।


© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com