সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

ইঞ্জিন সংকটের কারণে রেলে শিডিউল বিপর্যয়

ইঞ্জিন সংকটের কারণে রেলে শিডিউল বিপর্যয়

গত ১০ বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪০ টি নতুন ইঞ্জিন কেনার প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পগুলো থেকে আসেনি একটিও ইঞ্জিন। ফলে ইঞ্জিন সংকটের কারণে ঘটছে শিডিউল বিপর্যয়।

এমতাবস্থায়, ট্রেনের চাকা সচল রাখতে ভারত থেকে ২০ টি পুরনো রেল ইঞ্জিন ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে।

ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের এমন অপেক্ষা নিত্যদিনের। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর বিলম্ব যেন প্রতিদিনের রুটিন। অঞ্চলভেদে এই অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয় ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত।

রেলের ইঞ্জিন সংকটের কারণে শিডিউল বিপর্যয় দিন দিন বাড়ছে জানিয়ে রেলের সাবেক মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন বলছেন, সময় মতো ইঞ্জিন সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে রেল।

অথচ ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ রেল বহরে ইঞ্জিন ছিল ৪৮৬টি, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৩ টিতে। যার ৭০ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ।

সংকট সমাধানে গত ১০ বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪০ টি ইঞ্জিন কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পগুলো থেকে একটিও ইঞ্জিন আসেনি এখনও। ফলে ইঞ্জিন সংকট কাটাতে ভারত থেকে ২০টি পুরনো ইঞ্জিন ভাড়া করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেল সচিব।

রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন এ সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সাহায্য নেয়া যায় কিনা তা বিবেচনা করে দেখা হবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফর করে অগ্রগতিও করেছে ইঞ্জিন ভাড়া প্রকল্পের। অল্প সময়ের মধ্যে ইঞ্জিনগুলো দেশের আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, এর ফলে কিছুটা হলেও গতি পাবে গতি পাবে রেলের চাকা।

ইঞ্জিন প্রতি বছরে ভারতকে কত টাকা ভাড়া দিতে এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও, পুরনো ইঞ্জিন ভাড়া করাকে সমালোচনা করছেন অনেক রেল কর্মকর্তা।

২০১১ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০ টি ইঞ্জিন কেনার প্রকল্প নেয়া হয়। আট বছরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬০০ কোটি টাকা, কিন্তু ইঞ্জিন আসেনি একটিও। উল্টোদিকে খরচ হয়ে গেছে প্রকল্পের বেশ অনেক টাকা।


© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com