শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

এবার প্রকাশ্যে নার্সকে কুপিয়ে মারল বখাটেরা

এবার প্রকাশ্যে নার্সকে কুপিয়ে মারল বখাটেরা

হাসপাতালে যাওয়া-আসার সময় দীর্ঘদিন ধরে নার্স তানজিনা আক্তারকে (২৪) উত্ত্যক্ত করতেন বখাটেরা। এই উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকালে হাসপাতালে যাওয়ার পথে বখাটেরা ওই নার্সকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান মেয়েটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নার্স তানজিনার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মোতাউজ্জামান। এ ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত তানজিনা আক্তার (২৪) সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের মাদ্রাসাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে। তিনি ওই ইউনিয়নের অবস্থিত গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করতেন। গ্রেফতারকৃত আরমান হোসেন জীবন (১৯) সালন্দর ইউনিয়নের মাদ্রাসাপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) কিশোরী তানজিনার বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে আরমান হোসেন জীবন (১৯) সহ অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

মামলার বরাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোতাউজ্জামান বলেন, প্রতিদিন কিশোরী তানজিনা আক্তার বাড়ির পাশের চক্ষু হাসপাতালে যাতায়াত করার সময় প্রতিবেশী বখাটে আরমান হোসেন জীবন সহ তার কয়েকজন বন্ধু ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করত। আর এই উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করে কিশোরী তানজিনা আক্তার। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বখাটেরা।

গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরী তানজিনা বাসা থেকে চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার সময় তার পথরোধ করে বখাটে আরমান হোসেন জীবন সহ তার কয়েকজন বন্ধু। এসময় কিশোরী তানজিনা চিৎকার শুরু করলে আরমান সহ তার বন্ধুরা ধারালো ছোড়া দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে তাকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়।

এসআই মোতাউজ্জামান বলেন, পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরী তানজিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে চিকিৎসকরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে কিশোরী তানজিনা মারা যান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোতাউজ্জামান বলেন, প্রথমে মামলাটি হত্যাচেষ্টার ধারায় রুজু করা হয়েছিল; এখন যেহেতু কিশোরী তানজিনা মারা গেছেন সেক্ষেত্রে এ মামলায় এখন হত্যার ধারা সংযুক্ত হবে।

মামলার তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এসআই মোতাউজ্জামান।


© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com