মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাইতুলহুদা জামে মসজিদ সংলগ্ন পূর্ব-পশ্চিম বাদুরতলা খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয় ৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রতিদিনই দু’পাড়ের মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বেশি বৃষ্টিপাত হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই সাঁকোটির স্থলে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাসহ বহু মানুষ দুর্ভোগ ও ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঠবাড়ি ইউনিয়নের বিষখালী ভাঙন কবলিত এলাকা হওয়ায় বাড়িঘর, জায়গা-জমিসহ রাস্তঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগের জন্য সবার ভরসা একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি।

এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার পশ্চিম বাদুরতলা এম এস আলম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বাদুরতলা আফাজ উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১৫নং পশ্চিম বাদুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৫ নং পূর্ব বাদুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল মালেক কলেজ, ৬৪নং চুনপুরী সরকারি বিদ্যালয় ও উত্তর উত্তমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

বছরের পর বছর এ সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এ ছাড়াও সময় বাঁচাতে বড়ইয়া ইউনিয়নের লোকজন উপজেলা, জেলা শহরে যেতে এ সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

এলাকাটির বাসিন্দা আব্দুল করিম হাওলাদার জানান, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ব্রিজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষে কারো মনে থাকে না। এই সাঁকো পার হতে গিয়ে আমার ছেলে শামিম হোসেনের অকাল মৃত্যু হয়েছে।

কোমলমতি শিক্ষার্থী বিথি আক্তার, তুলি আক্তার, মো. শাকিল, তিথি, মবিন ও জুবায়ের জানায়, আমরা বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় হাক্কা (সাঁকো) দিয়ে পড়ে গিয়ে জামা-কাপড়, বই-খাতা ভিজে আবার বাড়িতে ফিরে যাই। পরে স্কুল না যাওয়ার কারণে আবার স্কুলে গিয়ে স্যারদের মারও খেয়েছি।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. আনোয়ার হোসেন জানায়, বর্ষাকালে এই সাঁকো পারাপারে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে আমার পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার জনসাধারণ শিগগিরই একটি ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল সিকদার জানান, ওখানে ব্রিজ করার জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। আবেদন মঞ্জুর হলে প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমি ওই স্থানে ব্রিজ করতে আগ্রহী। ইচ্ছা করলে একা কিছুই করতে পারি না। তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের রেজুলেশন থাকলে ব্রিজের কাজ করা সম্ভব।

উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মনিরউজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সরেজমিনে দেখে যদি আমাদের উপজেলার অর্থায়নে সম্ভব হয় তবে ব্রিজের কাজ দ্রুত শুরু করব। আমাদের অর্থায়নে না হলে জেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠাব।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com