মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

শিশু সুজয় হত্যা: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন

শিশু সুজয় হত্যা: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

ইতালী প্রবাসীর পাঁচ বছরের নিস্পাপ শিশু সুজয়ের মৃত্যুর নিষ্ঠুরতার দায় কার ? পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন ? মামলা যেন হারিয়ে না যায় ? সুজয়ের জন্য কাঁদছে সর্বস্তরের মানুষ । নিখোঁজের তিন দিন পর লাশ বাড়ির সামনের পুকুর থেকে উদ্ধার হলেও পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য ৫৮ দিনেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি।

এ নিয়ে পুলিশের উপর আস্তা হারিয়ে ফেলছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও কেউ এ বিষয়ে সঠিক তথ্য সাংবাদিকদের জানালে তিনি হয়ে যান আসামী। এ ভাবে নিরীহ মানুষকে আসামী করে পুলিশ উল্টো অর্থ বাণিজ্য শুরু করেছে।

গত ২১ মার্চ সময় টেলিভিশনে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। যেসব লোক টেলিভিশনে সাক্ষাত দিয়েছেন। পুলিশ তাদেরকে উল্টো আসামি করে ১৬৪ ধারায় সাজানো জবানবন্দি নিয়ে নতুন ভাবে আসামী বানিয়ে নির্যাচন চালিয়েছেন। আবার অনেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত টাকা নিয়ে ছেড়েও দিয়েছেন যারা এজাহারভুক্ত আসামী ।

এসব বিষয় নিয়ে শানবান্দা, কৃষ্ণপুর, কাকুরিয়া, খাবাশপুর, ভাড়ারিয়াসহ এলাকাবাসী আতংকে রয়েছেন। নির্ভনযোগ্য একটু সূত্র জানায়, কৃষ্ণপুর, বালিরটেক ও বাঘিয়া গ্রামের চিহ্নিত তিন জন লোকই পুলিশের সঙ্গে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত এই তিন জনই এলাকার নিরিহ লোকদের আসামির নাম পুলিশের কাছে দিচ্ছেন এবং এই আসামিদের কাজ থেকে ৫০ থেকে ২ লাখ পর্যন্ত টাকা নিয়ে পুলিশকে অর্ধেক দিচ্ছেন আর বাকি অর্ধেক ঐ চিহ্নিত লোকেরা বন্টন করে নিচ্ছেন।

১৮ মার্চ নিখোঁজ হওয়া পাঁচ বয়সের শিশু সুজয়ের লাশ ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুরে পাওয়া যায়। ধারনা করা হচ্ছে সম্পত্তির লোভে সুজয়কে তার জেঠা-জেঠী আটকিয়ে রেখে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

নিহত সুজয় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভারাড়িয়া ইউনিয়নের কাকুরিয়া গ্রামের ইতালী প্রবাসী সঞ্জয় দেবনাথের ছেলে।

সুজয়ের মা বাসন্তী দেবনাথ গত ১৮ মার্চ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পুকুরে গোসল করতে যায়। সেখান থেকে ফিরে সুজয়কে বাড়িতে নাপেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় খোঁজাখুজি করে নাপেয়ে এলাকায় মাইকিং করাহয় ও চাচা রনজিত দেব নাথ বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে।

এলাকাবাসী জানায়, সন্ধ্যায় পুলিশ এসে রনজিত দেবনাথের সঙ্গে যোগ দিয়ে অর্থ নিয়ে চলে যায়। ১৯ মার্চ সকালে আবার আসে পুলিশ। কোন ঘরে তল্লাসি না করে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে পুলিশ চলে যায়। আবার সন্ধ্যায় আসে পুলিশ। একই কাজ করে চলে যায় পুলিশ।

এভাবে প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় পুলিশ এসে চলে যায়। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জিজ্ঞাসা করলে, পুলিশ বলে এখন রনজিতদের বাড়ীর কাউকে কিছু বলছি না। বললে ওরা শিশুকে মেরে ফেলবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুরুব্বী বলেন, ‘ রনজিতদের বাড়ির সবাইকে চাপ দিলে শিশুকে উদ্ধার করা যেত। এ নিয়ে এলাকাবাসী পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হতে থাকে।

এলাকা বাসী জানায় ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তার পাশে পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে চিল্লাচিল্লি করতে থাকে । এক এক করে হাজার হাজর মানুষ জরো হয়ে যায়। ঘটনার সাথে জরিত থাকার সন্দেহে ঐ বাড়িটি ঘেরাও করে দরজা জানালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে মার ধর করে আটকে রাখে।

ঘটনার সাথে জরিত থাকার সন্দেহে পাঁচজনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। অটক কৃতরা হলেন, ১. রনজিত দেবনাথ (৪৫), ২. তার মা মায়া দেবনাথ ( ৬৮), ৩. স্ত্রী নিপা দেবনাথ (৩৮), ৪. মেয়ে রিতু দেব নাথ, ও ৫.ছেলে নিলয় দেবনাথ (১২)।

অভিযুক্ত এসকল আসামীরা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে রাজার হালে চলছে। আর পুলিশের গাড়ী ভাংচুরের দুই আসামী এখন কারা ভোগ করছেন। এ নিয়েও সাধারন মানুষের মধ্যে নানা ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

নিহত সুজয়ের বড়বোন সুস্মিতা দেবী এই প্রতিনিধিকে জানায়, পুর্ব শত্রুতার জের ধরেই আমার ভাই সুজয়কে ওরা মেরে ফেলেছে। সে জানায় গত ৫ বছর আগে আমার এক বোন সংগীতা দেবীকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফলে দিয়ে হত্যা করে।

সে আরও বলেন, ‘সেই থেকে আমাদের সাথে প্রতি নিয়তই ঝগড়া লেঘেই থাকতো। বাবা ইাতালী থেকে দেশে এসে মানিকগঞ্জ শহরে ৭০লাখ টাকা দিয়ে একটি জায়গা কিনে। ১৫দিন আগে সঞ্জয় দেবনাথ আবার ইতালি চলে যায়। এর পর থেকেই কাকা কাকী ও কাকাতো ভাই বোনেরা আমাদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতো’।

সঞ্জয় দেবনাথ ইতালী থেকে তার ভাই রঞ্জিত দেবনাথের কাছেই টাকা পাঠাতো এবং সেই সংসারের দেখ ভাল করতো। সন্ঞ্জয় দেবনাথের বড় ভাই রঞ্জিত দেব নাথকে খুব বিশ্বাস করতো। কিন্তু ৭০লাখ টাকার সম্পত্তি একার নামে দলিল করার পরই প্রতি হিংসার বস বতি হয়ে সুজয়কে অপহরন করে মেরে গুম করে লুকিয়ে রাখে। দুর্গন্ধ বের হওয়ার ভয়ে রাতের আধারে বারির পাশে পুকুরে ফেলে দেয়।

জনতার হাত থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় জনতা পুলিশের দেরি দেখে পুলিশের গাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাংচুর চালায় । পুলিশ ৬ রাউন্ড ফাকা গুলি করে পরিস্থিতি শান্ত করে বলেও এলাকাবাসী জানায়।

সুজয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ ও সুজয়ের মামা রুনু দেবনাথ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে গ্রেফতার আতঙ্কে ওই এলাকার ৪টি গ্রাম পুরুষশূণ্য হয়ে যায়। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই মানবেন্দ্র বালো বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৩৫ জন এবং গং দিয়ে ২০০/ ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আর এই মামলার সূত্র ধরে শুরু হয়েছে পুলিশের বাণিজ্য।

গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় মূল আসামীদের বাদ দিয়ে পুলিশের সহায়তায় রনজিৎ দেশ ত্যাগ করতে পারে এই আশংকা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো বলেন, ‘ এ ঘটনায় ¯^াক্ষী প্রমাণের উপর ভিত্তি করে আমরা বুঝতে পেরেছি যাদের আটক করা হয়েছে অর্থাৎ সুজয়ের জেঠা রনজিত দেবনাথ, তার স্ত্রী নিপা দেবনাথসহ এরাই দায়ি’।

এলাকার পুরুষ শূণ্য সম্পর্কে উপ-পরিদর্শক আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এলাকার কয়েক জন মানুষ দায়ী’। তাদের অসত কাজের জন্য আমাদের ব্যাপহার করতে চেয়েছিলেন’।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম এর সঙ্গে দুই দফায় যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্বব হয়নি। তবে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘টেলিফোনে সাক্ষাত দেয়া যাবে না। আপনার প্রতিনিধিকে পাঠিয়ে দিন’। আমি থানায় যোগাযোগ করে সকল তথ্য নিয়ে আপনার প্রতিনিধিকে জানাবো’।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com