সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি :

নিউজ পোর্টাল ও আইপি টেলিভিশন  আজকাল২৪.কম-এ ঢাকা সিটির প্রতি থানা ও সারেদেশে "রিপোর্টার/সংবাদদাতা" নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন aajkaalbd@gmail.com

নদী খনন সেক্টরে নীবব বিপ্লব ঘটতে চলেছে

নদী খনন সেক্টরে নীবব বিপ্লব ঘটতে চলেছে

বিশেষ প্রতিনিধি,আজকাল, ঢাকা: 

সারাদেশে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং সেক্টরে নীবব বিপ্লব ঘটতে চলেছে। ৭টি ড্রেজার নিয়ে আওমালী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। বিগত ১০ বছরের শাসন আমলে নদীর নাব্যতা রক্ষায় ২৫টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীন নৌ-পথের ৫৩টি রুট ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ড্রেজারগুলো সারাদেশের নৌপথ ড্রেজিং কাজে নিয়োজিত থেকে ৯২০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করে মৃতনদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আরো ১ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার নৌপথের উন্নয়নমূলক খনন কাজ করা হচ্ছে। যা নিঃসন্দেহে নৌ-সেক্টরের নীরব বিপ্লব বলে মনে করছেন নৌ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ‘হারানো নৌপথ খনন করার পর নৌপথে নৌযান ও যাত্রী চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে’।

বিশেষ করে মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌ-পথ খনন করে মৃত নদীগুলো সচল করায় দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে পণ্যপরিবহনে গতি বেড়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ৫৩টি রুট ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের ব্যয় ধরা ছিল ১৮শ’ ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। যা সংশোধিত আকারে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৯ শ’ ২৩ কোটি টাকা।

এছাড়াও ভারত-বাংলাদেশ নৌবাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়ে নৌ-ট্রান্সশিপমেন্ট এর মাধ্যমে ত্রিপুরায় মালামাল পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে। শুধু নৌ-ট্রান্সশিপমেন্টই নয়, রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠান শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে দৃস্টিনন্দন ইকোপার্ক তৈরি করা হয়েছে। যা সর্ব সাধারণের বিনোদনের ব্যবস্থা হয়েছে।

এদিকে ড্রেজিং ও সার্ভে সহায়ক নৌ-যান সংগৃহিত হওয়ায় নৌ-সংরক্ষণ কাজ জোরদার হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিস্ট প্রকৌশলীরা জানান।

এছাড়া ২৪ নৌ-রুটের মধ্যে ৭টি রুটের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ১৬টি কাজ এখন চলছে। এর মধ্যে ১টি রুটের কাজ শীঘ্রই শুরু করা হবে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগ। ৪টি নৌ রুট বিভিন্ন প্রকল্পে ওভার লেপিং হওয়ায় প্রকল্প হতে বাদ দিয়ে নতুন ৪টি রুট অর্ন্তভুক্তি করে প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে ।

এছাড়াও ১২(বার)টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খনন প্রকল্পসহ, মংলা-ঘসিয়াখালী নৌপথ, ড্রেজার সংগ্রহসহ নৌপথ উন্নয়নের নানা প্রকল্পের কাজের গতি নৌ-বিপ্লবের মধ্যে রয়েছে।

নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭২ সালে ২টি, ১৯৭৫ সালে ৫টি, ২০১১ সালে ৩টি, ২০১৪ সালে ৮টি, ২০১৬ সালে ২টি এবং ২০১৭ সালে ৪টি এম্ফিবিয়ান,২০১৮ সালে ১০টি টাইপ কাটার সাকশন ড্রেজারসহ মোট ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি নৌ খনন ( ক্যাপিটাল ড্রেজিং) প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে বর্তমান সরকার ৯২০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করেছে। আরো ১ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার নৌপথের উন্নয়ন মূলক খনন কাজ করা হচ্ছে।

দেশের হারানো নৌপথগুলো বাঁচিয়ে রাখার লক্ষে সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ খনন প্রকল্পের আওতায় ৩৫০ কিলোমিটার নৌপথ করা সহ আরো ৬০৩ কিলোমিটার নৌপথের উন্নয়নমূলক খনন কাজ করা হচ্ছে।

‘মংলা হতে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌ পথের নাব্যতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৯.১৫ কিলোমিটার নৌপথ করা হয়। আরো ৪৬০ কিলোমিটার নৌপথের উন্নয়নমূলক খনন কাজ করা হচ্ছে।

নৌপথের গতি বাড়াতে আরো ২০টি নতুন ড্রেজারের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। যা চলতি বছরের দ্রুত সময়ের মধ্যে ১০টি এবং বাকি ১০টি ড্রেজার ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে।

অভ্যন্তরীন নৌ-পথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ( ১ম পর্যায়ে ২৪টি নৌ-পথ) দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের ড্রেজিং কাজ ২০১৬ সালে শেষ হবার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ টি জাহাজ চলাচল করেছে এবং শ্যালা নদী দিয়ে এখন আর কোন জাহাজ চলছে না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ( পুর ) মো. ছাইদুর রহমান।

আড়িয়াল খাঁ, মধুমতি ও কুমার নদী বিধৌত ‘মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌ-পথ খনন’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৬ বছরের হারানো নৌপথের ঐহিত্যও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলে নৌপথে পণ্যপরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্যসহ স্থানীয় দুই কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হতে পারবে বলেও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের নিবিড় পরিবীক্ষণের (আইএমইডি) চুড়ান্ত পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে দক্ষিণাঞ্চলের এ নদীগুলো বিধৌত মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ এলাকার নৌ-পথ ছিল প্রবাহমান। নদীর বুকে নৌ-যান চলাচল করত প্রবল গতিতে। কালের বিবর্তনে এসব নদীতে পলি পড়ে অনেক নৌপথ হারিয়ে যায়, অনেকটা হয়ে পড়ে সংকুচিত। ফলে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নৌপথ সচল রাখতে প্রকল্প নেয়া হয়।

বিআইডব্লিটিএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌ-পথ খনন’ প্রকল্পে সাশ্রয়কৃত টাকা থেকে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোস্তফাপুর-পয়সারহাট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার আলিয়াল খাঁ নদী খনন করা হয়। এ কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

এই নৌপথে খননের ফলে মাদারিপুর থেকে বাগেরহাট, বরিশাল ও পিরোজপুর পর্যন্ত যাত্রীরা নৌপথে যাতায়াত করতে পারছে এবং মালামাল পরিবহন করতে পারছে। এতে সড়ক পথের যাত্রীদের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ কমে গেছে।

এদিকে মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌ-পথ খনন’ প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু নদীর নাব্যতা ফিরে পাওয়াই নয়, প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিং এর মাটি দ্বারা নাজিম উদ্দিন কলেজের নীচু জায়গা ভরাট করে খেলার মাঠ তৈরী , ইউনাইটেড স্কুলের সামনে বিশাল নীচু জায়গা ভরাট করে খেরার মাট, মাদারীপুর পৌর সভার কবরস্থান, শিল্প কলা একাডেমীর নীচু জায়গা, পুলিশ সুপার অফিসের নীচু জায়গা, চরমুগুরিয়া ঈদগাঁ মাঠ, স্কলের মাঠ ভরাট করা হয়েছে।

এরকম শত শত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গীর্জার নীচু জায়গাসহ রাস্তার পাশে বিভিন্ন জায়গা প্রায় ৫০০ একর নীচু জায়গা ভরাট করা হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com