মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০১:০৪ অপরাহ্ন

চলে গেলেন সোনালী কাবিন খ্যাত কবি আল মাহমুদ

চলে গেলেন সোনালী কাবিন খ্যাত কবি আল মাহমুদ

সোনালী কাবিন’ খ্যাত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আল মাহমুদ আর নেই। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১১ টা ৫ মিনিটে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন কবি আল মাহমুদ। অসুস্থ হয়ে পড়লে ৯ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের সিসিইউ ও পরে আইসিইউতে ভর্তি হন তিনি।

শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে শুক্রবার রাত দশটার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। পরে রাত ১১ টা ৫ মিনিটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কবির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। রাতেই আল মাহমুদের মরদেহ তার বড়ছেলের মগবাজারের বাসায় নেয়া হয়। তবে জানাযা এবং দাফন সম্পর্কে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তার পরিবার।

১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মাহমুদ। তার প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান তিনি।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে পঞ্চাশের দশকে এসে বাংলা কবিতার বাঁক বদল ঘটে। কবিতায় এ সময় রাজনীতি, আন্দোলন- সংগ্রামের পাশাপাশি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, লোকায়ত জীবন, সাম্যবাদ ইত্যাদি প্রবলভাবে উঠে আসতে থাকে।

১৯৫৪ সালে ১৮ বছর বয়স থেকে তাঁর কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূখ ও কৃত্তিবাস, বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে তাঁর নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং তাঁকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) প্রথমেই তাঁকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে স্থান করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাঁকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯৩ সালে বের হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। কবিতার মতো গল্প ও উপন্যাসেও তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে যোগদান করেন। পরে ওই বিভাগের পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে অবসরে যান তিনি।

কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই মিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com