বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

ভিসির অনুপস্থিতিতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা

ভিসির অনুপস্থিতিতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিয়ম ভঙ্গ করেই চলেছেন। দিনের পর দিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে।

রাষ্ট্রপতি যে তিনটি শর্তে অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন। তার প্রধান শর্ত ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু তিনি তা মানছেন না।

গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি, দুইমাসে উপাচার্য ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন মাত্র আটদিন। তাও কয়েক ঘন্টার জন্য। তিনি সকালের ফ্লাইটে এসে বিকেলে আবার ঢাকা ফিরে যান। আর উপস্থিত থাকাকালীন বেশিরভাগ সময়ই তিনি কাটান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি একাডেমিক এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো মনিটরিং না করেন তাহলে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই স্থবিরতা আসবে।’

আর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড.ওয়াজেদ রিসার্চ ইনিস্টিটিউট এর গবেষক ড. রোকনুজ্জামান জানান, ‘তাঁর দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকার কারণে নিয়োগের শর্ত পুরোপুরি ভঙ্গ হয়েছে।’ এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট রকমের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান ড. রোকনুজ্জামান।

ভিসির অনুপস্থিতির কারণে স্থানীয় বিশিষ্টজনরা জানান, রংপুরের মানুষ সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপিঠ নিয়ে যে স্বপ্ন লালন করে, উপাচার্যের গাফিলতিতে সব ভণ্ডুল হয়ে যাচ্ছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ড. মফিজুল ইসলাম মান্টু বলেন, ‘তিনি ক্যাম্পাসে এসে দুই থেকে তিন ঘন্টা অবস্থান করেন। এতে, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের যে আশা আকাঙ্খা এবং প্রতিষ্ঠানটির পড়াশুনার মান, গবেষণার কাজ এবং অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রশিদ বাবু বলেন, ‘যে ভিসি ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকতে পারবে এবং সময় দিতে পারবে তাকেই আমাদের দরকার। সকালে এসে বিকেলে চলে যাবেন এমন ভিসি আমাদের দরকার নেই।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ কাজেই ঢাকায় থাকেন উপাচার্য। এতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজে তেমন প্রভাব পড়ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়টির মুখপাত্র তাবিউর রহমান প্রধান জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজেই বেশিরভাগ সময় তিনি বাইরে থাকেন।’

তবে, তিনি যেখানেই থাকুননা কেনো কাজে কোনও জটিলতা করছেন না। যেভাবেই হোক তিনি তার কাজ সম্পন্ন করছেন বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মিত হলেও, উপাচার্য একাই ২৬টি কোর্সের দায়িত্বে এবং প্রতিটি কোর্সে সেমিস্টার প্রতি ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com