মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ১২:৫২ অপরাহ্ন

“উপজেলা নির্বাচন : দুটি গুরুতর বিষয়”

“উপজেলা নির্বাচন : দুটি গুরুতর বিষয়”

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: 

গত ৩০ ডিসেম্বর দেশে যেভাবে নৈশকালীন ‘ভুয়া ভোট’-এর নির্বাচন হয়ে গেল, তাতে জনগণ ভোটের ওপর বিশ্বাস প্রায় হারিয়েই ফেলেছে। এই নির্বাচনেও যে একইরকম ঘটনা ঘটানো হবে, সে সন্দেহ মানুষের মনে দৃঢ়মূল হয়ে আছে। মানুষের সে সন্দেহ নিরসনের বিন্দুমাত্র কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই সরকার উপজেলা নির্বাচন করে করতে উদ্যোগী হয়েছে।

এভাবেই যদি ‘ভোট’ হয়, তা হলে ভোট করে কি-ই বা হবে – ঘোষিত উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে মানুষের ভাবনাচিন্তা ও কথাবার্তায় এটিই প্রধান বিষয় হয়ে আছে। এ প্রশ্ন যথার্থ ও গুরুতর। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আরেকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ আছে। সেটি হলো উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের ইস্যু। সেই দ্বিতীয় গুরুতর বিষয়টি নিয়ে আজ এখানে কিছু আলোচনা করব।

স্থানীয় সরকারের কাজে কর্তৃত্ব করবে কে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিবাদ তীব্র। সেই দ্বন্দ্ব-বিবাদ ত্রিমুখী। কর্তৃত্বের দাবিদার হিসেবে একদিকে রয়েছেন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ প্রভৃতির নির্বাচিত মেয়র, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনার, সদস্য প্রমুখ।

এর পাশাপাশি আবার আছেন আরেক কিসিমের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তারা হলেন সংসদ সদস্য। এ দুই মহল ছাড়াও স্থানীয় সরকারের কর্তৃত্বের তৃতীয় দাবিদার হিসেবে রয়েছেন মহাশক্তিধর আমলাতন্ত্র। এই ত্রিকোণ রশি টানাটানিতে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো আজ ত্রিশঙ্কু অবস্থায় নিপতিত।

স্থানীয় স্বশাসনের ব্যাপারটি আমাদের সমাজে সুপ্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত। রাজা-মহারাজারা রাজ্য চালাতেন। পরস্পর যুদ্ধ করতেন। রাজ্য-সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়া চলত। এসবের মধ্যেই প্রশান্তলয়ে আপন তালে প্রবাহিত হতো গ্রামভিত্তিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক-সামাজিক এককগুলো।

অনেকেই এটিকে ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ বলে বিশেষায়িত করেছেন। এসব গ্রামের প্রবাহমান ফল্গুধারা লালিত হতো তারই বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা, স্থানীয় স্বশাসিত ব্যবস্থার গণসংস্থাগুলো দ্বারা। মাতবর, সর্দার প্রমুখসহ পঞ্চায়েতব্যবস্থার ধারণার মধ্যে সেই প্রাচীন গণশাসন কাঠামোর প্রতিচ্ছবি এখনো আমরা কিছুটা খুঁজে পাই।

যুগ যুগ ধরে চলে আসা সেই স্বশাসিত স্থানীয় শাসনব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বড় রকম ধাক্কা এসেছিল সর্বপ্রথম ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের হাত থেকে। রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বত্র প্রসারিত করার রাজনৈতিক প্রয়োজনে স্থানীয় স্বশাসনব্যবস্থাকে তারা নিয়ন্ত্রিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল।

১৮৮৫ সালে তারা প্রবর্তন করেছিল ইউনিয়ন বোর্ড নামক সংস্থা। এর মাধ্যমেই প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত স্বশাসিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ক্ষেত্রে বড় রকম বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল। স্থানীয় স্বশাসিতব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক শাসন প্রক্রিয়ার আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল। এগুলোকে করে তোলা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্থানীয় চৌকি’।

এসব সত্ত্বেও তৃণমূলের নিবিড় সামাজিক শাসন প্রক্রিয়ার যেসব কাজ প্রাচীনকাল থেকে স্বশাসিত সংস্থাগুলো পরিচালনা করত, সেসব কাজের অনেকটিই ব্রিটিশদের তৈরি করা ইউনিয়ন বোর্ডগুলোকেও অব্যাহত রাখতে হয়েছিল।

সেই ইউনিয়ন বোর্ড, জেলা বোর্ড ইত্যাদির উত্তরাধিকার বহন করেই সমকালীন ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পরিষদের গঠনধারা রচিত হয়েছিল। আইয়ুব আমলে মৌলিক গণতন্ত্রের ব্যবস্থা তথা ধিকৃত ‘বিডি সিস্টেম’ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে এসব সংস্থাকে দলীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে রচিত দেশের সংবিধানে এসব বিকৃতি অনেকটা পরিমাণে দূর করে স্বশাসিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে তার প্রকৃত গণতান্ত্রিক মর্মবাণীর ভিত্তিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সংবিধানে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ একটি পৃথক পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এমনটি খুব একটা দেখা যায় না।

কিন্তু সেই সাংবিধানিক বিধান আজও বাস্তবায়ন হয়নি। রাষ্ট্রের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আগাগোড়া যে কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে, তারা তা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শাসক-শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রের ওপর তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব হাতছাড়া করার চেষ্টাকে মরিয়া প্রচেষ্টার দ্বারা ভ-ুল করে দিতে সক্ষম হয়েছিল। সেই একই কর্তৃত্ববান শক্তিধর মহল এখনো স্বশাসিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ক্ষমতায়নের পথ রুদ্ধ করে রেখেছে।

স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো হয়ে উঠতে পারত সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয়ব্যবস্থায় ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসব সংস্থার যথার্থ ক্ষমতায়ন দ্বারা ক্ষমতার গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ করে তাকে আরও তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের পথে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব হতো।

কিন্তু জনগণের ক্ষমতায়নের পরিবর্তে এগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে তৃণমূলে ক্ষমতাসীনদের খুঁটির জোর আরও শক্তিশালী করার জন্য। স্থানীয় সংস্থাকে পূর্ণ স্বশাসনের ক্ষমতা দিলে একদিকে আমলাতন্ত্র ও অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির ক্ষমতার দাপট আগের মতো আর থাকবে না – এই ভয়ে তারা ক্ষমতার গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টাকে নস্যাৎ করতে সবসময়ই তৎপর থেকেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ইত্যাদি কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়ে থাকে সমাজকল্যাণ ও উন্নয়নের নানা কার্যক্রম। প্রজেক্টের কাজ, বিধবাভাতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগ, রাস্তা-কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি হরেকরকমের কত কাজ সেখান থেকে করতে হয়। এগুলোই তো ‘পাওয়ার’ খাটানোর ‘আসল’ জায়গা।

এই ‘পাওয়ার’ স্থানীয় সংস্থার হাতে ছেড়ে দিলে এমপি হওয়া কিংবা আমলা হওয়ার ‘চার্ম’ আর থাকে না। তাই আমলা ও এমপিরা এসব বিষয়ের ওপর তাদের কর্তৃত্ব ছাড়তে নারাজ।

ব্যাপারটি শুধু ‘পাওয়ার’-এর বিষয় নয়। এই পাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে আর্থিক স্বার্থের ব্যাপারও। রাস্তা-ঘাট নির্মাণের টেন্ডার থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র ভর্তি, গমের প্রজেক্ট অনুমোদন – সব কিছুর সঙ্গে জড়িত রয়েছে লেনদেন আর বিপুল পরিমাণের উপরি আয়ের ব্যাপার।

এরূপ মোহনীয় আর্থিক সুযোগকে তারা কি স্বেচ্ছায় ছাড়তে রাজি হতে পারেন? তাই তো নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের হাতে উপজেলা পরিষদের কর্তৃত্ব দিতে তাদের এত আপত্তি।

এরশাদীয় স্বৈরাচারের আমলে উপজেলাব্যবস্থা প্রবর্তন করে বলা হয়েছিল, এটি প্রশাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য করা হচ্ছে। কিন্তু সেই বিকেন্দ্রীকরণ মোটেও কোনো গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের পদক্ষেপ ছিল না। সেটি ছিল স্বৈরতন্ত্রের শাখা-প্রশাখা তৃণমূলে বিস্তৃত করার একটি দুরভিসন্ধিমূলক প্রয়াস মাত্র।

জেলখানায় আটক রেখে বন্দিদের স্বশাসন প্রদানকে যেমন মুক্তি প্রদান বলা যায় না, সামরিক স্বৈরশাসন বহাল রেখে উপজেলা পরিষদ গঠনকেও তেমনই ক্ষমতার গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ বলা নিছক তামাশা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

এ প্রসঙ্গে প্রায়ই একটি বিভ্রান্তিকর যুক্তি হাজির করা হয়ে থাকে, সংসদ সদস্যরা সংবিধান মোতাবেক নিজ নিজ আসন (ঈড়হংঃরঃঁবহপু) থেকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই নিজ এলাকার জনগণের ভালো-মন্দ দেখার প্রধান দায়িত্ব তাদেরই।

ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকা একমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় সব কর্মকা-ের বিষয়ে চূড়ান্ত খবরদারির এখতিয়ারও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের। কিন্তু জনগণ যে তাদের নির্বাচিত করে থাকে নির্দিষ্টভাবে জাতীয় স্তরের কাজ করার জন্য, স্থানীয় পর্যায়ের কাজ করার জন্য নয় – এ কথাটি চেপে যাওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ের কাজের জন্য স্থানীয় সংস্থার জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়, সে কথাটি তুলে ধরা হয় না।

এবার একটু নজর দেওয়া যাক এ বিষয়ে সংবিধানে কী লেখা, তার দিকে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি শিরোনামে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিগণ সমন্বয়ে গঠিত স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ দান করিবেন।’

এখানে ‘সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিগণ’ এবং তাদের ‘সমন্বয়ে গঠিত স্থানীয় শাসন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান’ শব্দগুলো বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। এ কথাগুলো দ্বারাই এ বিষয়টি সম্পর্কে সাংবিধানিকব্যবস্থার মর্মকথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার পরে সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে এবং ‘…প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ এখানে বিষয়টি আরও সুনির্দিষ্ট হয়েছে ‘সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে’ শব্দগুলো ব্যবহারে মাধ্যমে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবিধানের চতুর্থ ভাগের (নির্বাহী বিভাগ সংক্রান্ত) তৃতীয় পরিচ্ছদটি। ‘স্থানীয় শাসন’ শিরোনামের এই পরিচ্ছদের ৫৯ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনভার প্রদান করা হইবে।’

এখানে ‘প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনভার’ শব্দের দ্বারা স্পষ্টতই নিজ নিজ ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌর এলাকা ইত্যাদির কথাই বলা হয়েছে। তা হলে দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় শাসনের ভার ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর’ অর্পণের কথা সংবিধানে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে।

এসব থেকে এ কথাই সন্দেহাতীতভাবে প্রতীয়মান হয় – উপজেলা, ইউনিয়ন ইত্যাদি স্তরের নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় শাসনভার অর্পিত হবে। এখানে সংসদ সদস্য অথবা ইউএনওকে কর্তৃত্ব প্রদানের প্রশ্ন কোনোক্রমেই আসতে পারে না।

জাতীয় সংসদের সদস্যরা যেমন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা পৌরসভার মেয়ররাও সমভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তবে সবাই ভিন্ন ভিন্নস্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কেউ কারও চেয়ে ‘কম নির্বাচিত’ বা ‘কম জনপ্রতিনিধি’ নন। প্রশ্ন হলো, কোন জনপ্রতিনিধি তা হলে কোন দায়িত্ব পালন করবেন? এই প্রশ্নের জবাব অতি সহজ।

যে প্রতিনিধি যে কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি সেই দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন তার এলাকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথমত, দেশের আইনপ্রণয়ন ও দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য। এ দুটি কাজ সম্পাদন করা তাদের দায়িত্ব। উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনের জন্য তারা নির্বাচিত হননি। উপজেলা পরিষদের কাজে নাক গলানো (কর্তৃত্ব করা তো আরও অনেক দূরের কথা) মোটেও তাদের দায়িত্বের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

এখন যা দিয়ে শুরু করেছিলাম, তাতে ফিরে এসে বলা যায়, উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ‘নির্বাচনের সুষ্ঠুতা-নিরপেক্ষতা-গ্রহণযোগ্যতা’ এবং একই সঙ্গে ‘স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন’ এ দুটি ইস্যুই খুব গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের স্বার্থে ইস্যু দুটি নিরসন করা আজ অত্যাবশ্যক।

এই উভয় গুরুতর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হলো বর্তমান লুটপাটতন্ত্রের অর্থনৈতিকব্যবস্থা ও তার লালনকারী দুঃশাসনের রাষ্ট্রশক্তি। এই প্রতিবন্ধকতাকে উৎপাটিত করে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ও প্রকৃত জনমতের ভিত্তিতে সবস্তরের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত করে তাদের সঙ্গে নিয়ে গণজাগরণের জোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।

এ কাজটি করার দায়িত্ব আজ বহুলাংশে এসে বর্তেছে বামপন্থীদের ওপর। বামপন্থীদের আজ উপজেলায়-উপজেলায়, ইউনিয়নে-ইউনিয়নে, গ্রামে-গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে সংযোগ ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে যেতে হবে। লাখ লাখ শুধু নয়, তাদের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

এ কাজটি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা আজ তাদের সামনে একটি মূল কর্তব্য হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে সাফল্যের সুযোগ ও সম্ভাবনা অনেকটাই অনুকূল হয়ে উঠেছে। তার প্রমাণও সম্প্রতি পাওয়া গেছে। এই সম্ভাবনা ও সুযোগ হারিয়ে যাওয়ার আগেই সর্বশক্তি নিয়োগ করে এ কাজে নেমে পড়তে হবে। আন্দোলন, নির্বাচন প্রভৃতি সব পন্থা উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে এখনই সব বামপন্থী নেতাকর্মীকে এ কাজে জরুরি ভিত্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 AjKaal24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com